বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই প্রস্তাব প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পিডিবির এই প্রস্তাব কার্যকর হলে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
পিডিবির পক্ষ থেকে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি সংকটের যুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া আইএমএফের পক্ষ থেকেও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে মূল্য সমন্বয়ের চাপ রয়েছে। যদিও পিডিবি ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখার সুপারিশ করেছে, তবে আবাসিক ও শিল্প পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রহিম উল্লাহ বলেন, “বাজারে সব জিনিসের দাম এমনিতেই চড়া, তার ওপর যদি আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ে তবে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। পাইকারি দাম বাড়া মানেই তো খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়া।”
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের মতে, “দোকানের বিদ্যুৎ বিল বাড়লে খরচ সামলাতে আমাদের পণ্যের দাম বাড়াতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার পকেট থেকেই যাবে।”
বিইআরসি জানিয়েছে, পিডিবির প্রস্তাবটি এখন কারিগরি কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে সব পক্ষের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আসন্ন ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের চাওয়া—ভর্তুকি সমন্বয়ের নামে যেন মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ না হয়।
গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন










