
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দেশকে এগিয়ে নিতে এবং একটি নৈতিক মানসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় পায়ে হেঁটে সচিবালয়ে ফিরে যান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধি ও নৈতিকতার মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনেই জ্ঞানীগুণী মানুষদের সম্মানিত করে। এই উপলব্ধি থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘একুশে পদক’ প্রবর্তন করেছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন:
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: একুশে পদক ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে স্মরণে আনার একটি মাধ্যম।
পরিধি বিস্তার: ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক অর্জন।
একুশে ফেব্রুয়ারি: আত্মপরিচয়ের স্মারক
ফেব্রুয়ারি মাসকে ‘শেকড় সন্ধানী মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, “একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক এবং সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। এটি যেমন মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম ছিল, তেমনি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।”
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারা ভবিষ্যতে আরও শানিত হবে এবং সরকার এই চর্চাকে বেগবান করতে সবসময় পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের দীর্ঘ ও সৃজনমুখর জীবন কামনা করেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের বিশিষ্টজনদের হাতে ‘একুশে পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।










