Home আকাশ পথ বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়: বিমানবন্দরে আটকা হাজারো পর্যটক

বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়: বিমানবন্দরে আটকা হাজারো পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে নজিরবিহীন এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী মাঝপথে আটকা পড়েছেন।
গত কয়েক দিনে সামরিক উত্তেজনার কারণে সরাসরি হামলার শিকার হওয়া এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকা বেশ কিছু দেশের বিমানবন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবুধাবি এবং শারজাহ বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এমনকি দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর থেকে এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তাদের অধিকাংশ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
 দোহা (হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। কাতার এয়ারওয়েজ তাদের শত শত ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
কায়রো এবং আম্মান বিমানবন্দরেও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ইজিপ্ট এয়ার ১৩টি আঞ্চলিক গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
 যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এই অঞ্চলের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক বিমানের জন্য অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত তিন দিনে ১০২টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী ও ওমরাহ যাত্রী বিমানবন্দরে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে পর্যটকদের যে সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তার চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। ট্রানজিট নিতে গিয়ে দুবাই, দোহা বা আবুধাবিতে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী। এদের মধ্যে অনেক পর্যটক হোটেল ভাড়া করার সামর্থ্য হারিয়ে বিমানবন্দরের মেঝেতেই রাত কাটাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫৮ হাজার ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। একইভাবে বিভিন্ন দেশ থেকেও শত শত ওমরাহ যাত্রী মক্কা-মদিনায় যেতে পারছেন না।  বিমানবন্দরের লাউঞ্জগুলো যাত্রীদের চাপে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশ্রামের জায়গার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ফ্লাইট বিপর্যয়। এয়ার ইন্ডিয়া, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং কেএলএম-এর মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করছে, যার ফলে জ্বালানি খরচ ও সময় উভয়ই বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এয়ারলাইনসগুলো যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। অধিকাংশ সংস্থা টিকিট রি-শিডিউল বা রিফান্ডের সুবিধা দিলেও, আকাশসীমা কখন সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

businesstoday24.com-কে ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।