Home First Lead ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভবিষ্যতে গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির- এর সংবাদ ব্রিফিং

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম: পরিবেশবান্ধব সবুজ বিপ্লবের ছোঁয়া লাগতে যাচ্ছে দেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে। গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া ভবিষ্যতে আর কেউ শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আর রূপান্তরের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান ও বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। সেই গৌরবময় অবস্থান সাময়িকভাবে কিছুটা পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর স্থান পুনরুদ্ধারে জোরালোভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। বাকি ইয়ার্ডগুলোকেও দ্রুত এই একই মানদণ্ডে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এখনো লাইসেন্স পায়নি, তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে সরকার।
অতীতের নানা নেতিবাচক ইমেজ কাটিয়ে এই শিল্পের আধুনিকায়নের প্রশংসা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
ব্যবসায়িক পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
দেশের শিল্প খাতের অন্যতম বড় বাধা জ্বালানি সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যার কারণে রাতারাতি এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার বসে নেই। জরুরি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।
ইয়ার্ড পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।