Home First Lead নবম জাতীয় বেতন কমিশন: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ

সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
বেতন কাঠামো ও আর্থিক সংশ্লেষ
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য বর্তমানের ২০টি স্কেল বজায় রেখে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিশন প্রধান জানান, এই প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখযোগ্য সুপারিশসমূহ
দীর্ঘ ১২ বছর পর গঠিত এই কমিশন কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু সৃজনশীল প্রস্তাবনা দিয়েছে:
স্বাস্থ্যবীমা: সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তনের প্রস্তাব।
ভাতা বৃদ্ধি: ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ।
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতার সুপারিশ (সর্বোচ্চ দুই সন্তান পর্যন্ত)।
সংস্কার: পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সার্ভিস কমিশন গঠন এবং কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাব।
প্রধান উপদেষ্টার সন্তোষ
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।”
উল্লেখ্য, কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রতিবেদন দাখিলকালে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সুপারিশগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত এই কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। তবে ১৮৪টি সভা এবং ২,৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।