Home Second Lead বাণিজ্য সম্প্রসারণে পাঁচ শিল্পগোষ্ঠির সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক চট্টগ্রামে

বাণিজ্য সম্প্রসারণে পাঁচ শিল্পগোষ্ঠির সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক চট্টগ্রামে

পাঁচ শিল্প গ্রুপের মালিক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:  সোমবার চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু-তে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন দেশের শীর্ষ পাঁচটি শিল্প গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, আমদানিতে বিদ্যমান বাধা দূরীকরণ এবং মার্কিন বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
  • মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই): মোস্তফা কামাল (চেয়ারম্যান ও এমডি)।
  • সী-কম গ্রুপ: আমিরুল হক (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)।
  • প্যারাগন গ্রুপ: মশিউর রহমান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)।
  • নাহার এগ্রো: রাকিবুর রহমান টুটুল (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)। এবং
  • সিটি গ্রুপ: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যবসায়ীদের কাছে সরাসরি জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না। আলোচনার প্রধান দিকগুলো ছিল:
আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ: যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল এবং ভারী যন্ত্রপাতি আমদানিতে কাস্টমস ও লজিস্টিক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অবকাঠামোগত ও রেগুলেটরি বাধা: ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত (Regulatory Compliance) জটিলতাগুলো চিহ্নিত করার অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত।
বাণিজ্য ঘাটতি নিরসন: দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানির সুযোগগুলো আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সোমবারের  বৈঠকটি বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) স্থিতিশীলতা: মেঘনা, সিটি এবং প্যারাগনের মতো গ্রুপগুলো বাংলাদেশের খাদ্য ও শিল্প খাতের প্রধান সরবরাহকারী। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানিতে কোনো বাধা থাকলে তা সরাসরি স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে। রাষ্ট্রদূতের এই উদ্যোগ সেই সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।
২. সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) ইঙ্গিত: মার্কিন রাষ্ট্রদূত কর্তৃক সরাসরি শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লজিস্টিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন আগ্রহ বাড়তে পারে।
৩. নীতিগত সংস্কারের চাপ: রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স নিয়ে আলোচনার অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশী পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশে “নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার” বা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম করতে পারে।
 বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মার্কিন দূতাবাসের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনবে। এটি কেবল বড় শিল্প গ্রুপগুলোর জন্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের শিল্পায়ন ও ভোক্তা সাধারণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।