Home দিল্লি ২০২৬ সালে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা ভারতীয় রুপি: রেকর্ড পতন

২০২৬ সালে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা ভারতীয় রুপি: রেকর্ড পতন

গত ১৫ মে (শুক্রবার) লেনদেন চলাকালীন আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর রেকর্ড ৯৬.১৪-এ গিয়ে ঠেকে। পরবর্তীতে দিনশেষে এটি কিছুটা সামলে ৯৫.৯৭ রুপিতে থিতু হয়।
পতনের প্রধান কারণসমূহ
ভারতীয় রুপির এই নজিরবিহীন পতনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা:
১. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংঘাত এবং ওমান ও আরব আমিরাত উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের মতো ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে তেল আমদানির বিল মেটাতে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলোকে চড়া দামে বিপুল পরিমাণ ডলার কিনতে হচ্ছে, যা রুপির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।
২. বাণিজ্য ঘাটতি ও বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার
আমদানি খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি (Trade Deficit) আশঙ্কাজনক হারে প্রসারিত হয়েছে। একই সাথে, বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহার (Outflow) করে নিচ্ছেন।
৩. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি চাঙ্গা থাকায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার উচ্চ রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ডলার ইনডেক্স শক্তিশালী হচ্ছে এবং রুপির মতো উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংকের পদক্ষেপ
টাকার এই ফ্রি-ফল বা অবাধ পতন রোধ করতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBI) এবং সরকার বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাজার হস্তক্ষেপ: রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ডলার বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।
নতুন ব্যাংকিং নিয়ম: ব্যাংকগুলোর দিন শেষের মুদ্রা পজিশন সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ করার নিয়ম জারি করেছে আরবিআই।
আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি: চলতি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি (CAD) সামাল দিতে সোনা ও রূপা আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার।
জ্বালানির মূল্য সমন্বয়: অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব
বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ডলারের বিপরীতে রুপির এই পতন সরাসরি ভারতীয় পরিবারগুলোর ওপর আঘাত হানবে।

“রুপির মান ৯৬-এর ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের খরচ বাড়বে। ফলে ভারতের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি যারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।” — অজয় বাগগা, বাজার বিশ্লেষক

ওয়েলস ফার্গো এবং ভ্যানএক-এর মতো বৈশ্বিক সংস্থার স্ট্র্যাটেজিস্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতীয় রুপি দুর্বল হতে হতে প্রতি ডলারে ১০০ রুপির মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারে। তবে রুপির এই পতনে ভারতের আইটি ও ওষুধ রপ্তানিকারক খাতগুলো কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে, কারণ প্রতিটি ডলার আয়ের বিপরীতে তারা এখন বেশি পরিমাণ রুপি ঘরে তুলতে পারছে।

নিয়মিত এমন সব অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন