বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, দিনাজপুর: পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পাথর উত্তোলনের জন্য অন্যতম প্রধান প্রয়োজনীয় উপাদান, বিস্ফোরক পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে খনির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম জানান, আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে খনি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্ফোরকের নতুন চালান খনিতে এসে পৌঁছাবে এবং দ্রুতই আবার উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির ভেতরের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালু রয়েছে। খনিতে পর্যাপ্ত পাথর মজুত থাকায় এই সাময়িক অচলাবস্থায় বাজারে পাথরের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
খনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে জটিলতা ও বিলম্বের কারণে মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে খনির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ এবং ২০২২ সালেও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের অভাবে এখানে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন খনির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি হিসেবে পরিচিত এই মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) ২০০৭ সালের ২৫ মে তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে খনিটিতে তিন শিফটে প্রায় ৭৫০ জন শ্রমিক কর্মরত । ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে খনিটির উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)-এর সঙ্গে নতুন করে ছয় বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করে খনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়ে থাকে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও খনির সার্বিক নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
businesstoday24.com ফলো করুন।










