বিনোদন ডেস্ক: ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের মহাকাব্যিক সৃষ্টি ‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’ যখন মুক্তি পায়, তখন পুরো ভারত থমকে গিয়েছিল এক তরুণীর জাদুকরী সৌন্দর্যে। নীল চোখের সেই মেয়েটিই ছিলেন মন্দাকিনী। প্রথম ছবিতেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসা এই নায়িকা বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করলেও নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই যেন মিলিয়ে যান রুপালি পর্দার আড়াল থেকে।
সাফল্য ও গ্ল্যামারের দিনগুলো
‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’ সিনেমার সাফল্যের পর মন্দাকিনীকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মিঠুন চক্রবর্তী, গোবিন্দ ও সঞ্জয় দত্তের মতো তারকাদের বিপরীতে কাজ করেছেন ‘ডান্স ডান্স’, ‘লোহা’ এবং ‘কমান্ডো’-র মতো ব্যবসাসফল সিনেমায়। তার মায়াবী চাহনি আর সাবলীল অভিনয় তাকে অল্প সময়েই প্রথম সারির নায়িকাদের কাতারে নিয়ে যায়।
বিতর্ক ও চলচ্চিত্র জগত থেকে প্রস্থান
মন্দাকিনীর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা লাগে যখন নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে তার নাম জড়িয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও তিনি সবসময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কিন্তু এই বিতর্ক তার পেশাদার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোরদার’ সিনেমার পর তিনি ধীরে ধীরে অভিনয় জগত থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেন। গ্ল্যামারের আলো ছেড়ে তিনি বেছে নেন এক শান্ত ও নিভৃত জীবন।
তিব্বতি যোগব্যায়াম ও বর্তমান জীবন
সিনেমার জগত থেকে বিদায় নেওয়ার পর মন্দাকিনী বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং একজন তিব্বতি সন্ন্যাসীকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। তবে তার বর্তমান পরিচয় একজন ‘তিব্বতি যোগব্যায়াম’ (Tibetan Yoga) প্রশিক্ষক হিসেবে।
তিনি এবং তার স্বামী মিলে একটি তিব্বতি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করেন এবং সেখানে তিব্বতি যোগব্যায়াম ও ধ্যানের প্রশিক্ষণ দেন। রুপালি পর্দার সেই চঞ্চল ‘গঙ্গা’ আজ আধ্যাত্মিকতা এবং প্রশান্তির মাঝেই খুঁজে পেয়েছেন নিজের সার্থকতা।