Home Third Lead ঈদুল আজহার আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা

ঈদুল আজহার আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা

আমদানিতে সংকট নেই, তবুও খুচরায় দ্বিগুণ দাম

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশে মসলার বাজারে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, দেশে মসলার কোনো সংকট নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও পুরোপুরি স্বাভাবিক। এমনকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও এ খাতে পড়েনি। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বিশাল ব্যবধান সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের প্রধান পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের দরের সাথে খুচরা বাজারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে দামের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ। উদাহরণস্বরূপ, পাইকারি বাজারে যে জায়ফল ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ৫০০ টাকা। ৪৪০ টাকার দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায় এবং ১ হাজার ২০ টাকার গোলমরিচ খুচরা বাজারে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।

এলাচ ও জিরার মতো দামি মসলার ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ব্যবধান ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের বাজারেও এই চিত্র একই। পাইকারিতে ৪০-৬০ টাকার রসুন খুচরা বাজারে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উচ্চ আমদানি শুল্ক ও তদারকির অভাব বড় কারণ। বর্তমানে জিরার ওপর প্রায় ৫০.৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এছাড়া প্রতি কেজি এলাচে ৬৫০ টাকা ও গোলমরিচে ২২০ টাকা শুল্ক ধার্য আছে। এই উচ্চ শুল্কের কারণে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনছে, যা বৈধ আমদানিকারকদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে ফেলছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি থাকলেও স্থলবন্দরগুলো তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আমদানি তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টনের বেশি মসলা আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে রসুন, আদা ও দারুচিনির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন যে, কোরবানির চাহিদার বিপরীতে দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত এলাচ, দারুচিনি ও জিরা মজুদ রয়েছে। এমনকি জিরার দাম ভবিষ্যতে আরও কমার সম্ভাবনা আছে। লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে জাহাজ ভাড়া বাড়লেও তা দেশের মসলা বাজারে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে তারা মনে করছেন।

 বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ের লাগামহীন মুনাফা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষের কোরবানির আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি এবং একটি যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।