Home কক্সবাজার মাতারবাড়িতে নতুন থানা: বদলে যাচ্ছে মহেশখালীর নিরাপত্তা চিত্র

মাতারবাড়িতে নতুন থানা: বদলে যাচ্ছে মহেশখালীর নিরাপত্তা চিত্র

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে বইছে উন্নয়নের জোয়ার। গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র—দেশের অর্থনীতির ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্র।
এই ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) তাদের ১১৯তম সভায় মাতারবাড়ি থানা স্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা
মাতারবাড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ থানার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। কেন এই নতুন থানা এলাকার মানচিত্র বদলে দেবে, তার প্রধান কারণগুলো হলো:
বিনিয়োগ ও মেগা প্রকল্পের সুরক্ষা: মাতারবাড়িতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই নতুন থানার প্রধান কাজ হবে।
দ্রুত পুলিশি সেবা প্রদান: মহেশখালী মূল সদর থেকে মাতারবাড়ির দূরত্ব এবং ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত। স্থানীয় থানা হওয়ায় এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাড়া দিতে পারবে।
অপরাধ দমন ও চোরাচালান রোধ: উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় জলদস্যুতা এবং মাদক পাচারের রুট হিসেবে এই এলাকাটি সংবেদনশীল। থানা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়বে।
স্থানীয়দের কণ্ঠে আশার সুর
নতুন থানা স্থাপনের খবরে মাতারবাড়ির সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে তাদের অনুভূতি জানা গেছে:

“মাতারবাড়ি এখন আর আগের মতো গ্রাম নেই, এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করছে। আগে মহেশখালী সদরে গিয়ে অভিযোগ জানানো ছিল আমাদের জন্য এক প্রকার ভোগান্তি। এখন বাড়ির কাছেই পুলিশি সেবা পাব, এটা ভেবেই ভালো লাগছে।” — আলমগীর হোসেন, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

“এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই সাথে বাইরের অপরাধীরাও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। থানা হওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি নিরাপদ অনুভব করছি।” — ফাতেমা বেগম, স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা।

নিকার-এর সভায় অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
নিকার-এর ১১৯তম সভায় মাতারবাড়ি ছাড়াও আরও তিনটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর জেলার পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচল দক্ষিণ এবং নরসিংদী জেলার রায়পুরাকে ভেঙে নতুন একটি থানা।