বাসায় গেলেন সিএমপি কমিশনার
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রাম ফেরার পর জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিন অলরাউন্ডার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও গুরুতর হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে খুলশী থানা পুলিশের একটি দলের বিরুদ্ধে এই বর্বর আচরণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিজ বাসায় ফিরছিলেন নাঈম হাসান। তিনি জানান, লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যরা তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক অন্য একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় তার গলা চেপে ধরা হয় এবং লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তিনি জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার বলে পরিচয় নিশ্চিত করলেও পুলিশ তাদের কথায় কান দেয়নি। পরবর্তীতে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও ওসির সামনে তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করা হয় বলে নাঈম অভিযোগ করেন।
পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে পুলিশ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে গভীর রাতে তাকে মুক্তি দেয়।
ঘটনার পর পরই বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে সিএমপি প্রশাসনের। শনিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় সশরীরে যান। তিনি নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের এমন অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু বরখাস্তই নয়, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই অনিয়মের দায় পুলিশ বিভাগ নেবে না এবং অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ক্রিকেটার নাঈম হাসান চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাঈমকে সুষ্ঠু বিচারের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। পুরো ক্রীড়াঙ্গন এখন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।










