Home First Lead অবিশ্বাস্য স্পেন, অসহায় মেসি: বিশ্বজয়ের মুকুট স্প্যানিশদের মাথায়

অবিশ্বাস্য স্পেন, অসহায় মেসি: বিশ্বজয়ের মুকুট স্প্যানিশদের মাথায়

স্পোর্টস ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো লিয়োনেল মেসির। রবিবারের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের আক্রমণের ঝড়ে মহাতারকা মেসির আর্জেন্টিনা ফাইনালের মঞ্চে সবচেয়ে ম্লান ফুটবল উপহার দিল। অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটি স্পেনকে এনে দিল যোগ্য শিরোপা।

পরিসংখ্যানের আয়নায় আর্জেন্টিনার হতশ্রী রূপ

ফাইনালে দুই দলের পারফরম্যান্সের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মাঠের পরিসংখ্যান। যেখানে স্পেনের ২০টি শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি, যার প্রতিটিই এসেছে ম্যাচের একেবারে শেষ ৩-৪ মিনিটে। ১২০ মিনিটের পুরো খেলায় স্পেনের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। বল পজেশনেও ৬৮ শতাংশ আধিপত্য ছিল স্পেনের, আর্জেন্টিনার পায়ে বল ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। মোট পাস, নিখুঁত পাস আর কর্নারের পরিসংখ্যানেও যোজন যোজন এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা।

স্কালোনির ব্যর্থ কৌশল ও ফের্নান্দেজ়ের লাল কার্ড

ম্যাচে প্রান্ত ধরে আক্রমণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে প্রথম একাদশে নামিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তবে স্পেনের কড়া পাহারায় মন্তিয়েল বা দি পল কেউই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। উল্টো এনজ়ো ফের্নান্দেজ়ের লাল কার্ড আর্জেন্টিনার ম্যাচ বাঁচানোর শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। প্রথমে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে হলুদ কার্ড দেখা ফের্নান্দেজ় অতিরিক্ত সময়ে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার পক্ষে আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব ছিল না।

স্প্যানিশ গতির ঝড় ও তোরেসের সেই সোনালী মুহূর্ত

শুরু থেকেই স্পেনের মাঝমাঠের চালিকাশক্তি ছিলেন রদ্রি। দুই প্রান্তে আলেক্স বায়েনা, মার্ক কুকুয়েরা এবং লামিন ইয়ামালদের গতি সামলাতে পুরো ম্যাচ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে। প্রথমার্ধে মেসির পায়ে বল গিয়েছে মাত্র চার বার। এনজ়ো ও দি পলরা ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়কের পায়ে বল জোগান দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

স্পেনের একের পর এক আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণে ধাক্কা খাচ্ছিল। তবে ১১৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফেরান তোরেস। পেদ্রো পোরোর লম্বা ক্রস গোললাইনের কাছে পেয়ে দুর্দান্ত হেডে তা বক্সের ভেতরে নামিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তোরেসের বাঁ পায়ের নিখুঁত শট আছড়ে পড়ে জালে।

ছবি সংগৃৃহীত
ট্র্যাজিক নায়ক মেসি ও একটি যুগের অবসান

গতবারের বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা ২০১৯ সালের পর থেকে বড় প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থাকার যে রেকর্ড গড়েছিল, তা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল এই ফাইনালে। পুরো ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মেসি নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে রেফারির সাথে তর্ক করা ছাড়া আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। সতীর্থদের ব্যর্থতায় বল না পেয়ে অসহায়ের মতো মাঠ ছাড়তে হলো ফুটবল জাদুকরকে। আমেরিকার মাটিতে আরও একবার নিজেকে প্রমাণ করার যে চ্যালেঞ্জ মেসি নিয়েছিলেন, তার শেষটা হলো চরম বিষাদে। গতবারের সুখের স্মৃতি নিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ের এই করুণ সমাপ্তি ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল আক্ষেপ হয়ে থাকবে।

নিয়মিত ফুটবল ও খেলার দুনিয়ার সব খবর সবার আগে পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং এই ঐতিহাসিক ফাইনাল নিয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com