Home জাতীয় অকেজো প্রযুক্তি: ঝুট অর্থনীতিতে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার নেপথ্যে

অকেজো প্রযুক্তি: ঝুট অর্থনীতিতে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার নেপথ্যে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘সাদা সোনা’র পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল নীতিসহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব।  বছরে ৬ লাখ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর সিংহভাগ কেন এখনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে না।
নীতিমালার জটিলতায় বন্দি সম্ভাবনা
দেশের ঝুট ব্যবসা এখনো একটি অসংগঠিত এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কব্জায়। রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশাল বাজার কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় না থাকায় শিল্পমালিকরা বর্জ্য সংগ্রহে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বর্তমান কর কাঠামোতেও রিসাইক্লিং খাত খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। উদ্যোক্তারা বলছেন, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত বর্জ্যের ওপর ভ্যাট এবং অন্যান্য করের জটিলতা অনেক সময় কাঁচামাল সংগ্রহের খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা বিদেশি তুলা আমদানির চেয়েও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, ঝুট রপ্তানি করার যে সুযোগ রয়েছে, তা প্রকারান্তরে দেশীয় রিসাইক্লিং শিল্পকেই কাঁচামাল সংকটে ফেলছে।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: যেখানে আমরা পিছিয়ে
বাংলাদেশে বর্তমানে তুলা-ভিত্তিক (কটন) বর্জ্য রিসাইক্লিং করার জন্য কিছু সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ১৭টির মতো কারখানা এই পথে হাঁটলেও তাদের প্রযুক্তি মূলত প্রথম প্রজন্মের। বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘ব্লেন্ডেড ফেব্রিক’ বা মিশ্র তন্তু (যেমন: কটন-পলিয়েস্টার মিক্সড) এবং মানবসৃষ্ট ফাইবার (Man-made fiber)।
বর্তমান বিশ্বে ভোক্তাদের চাহিদা পরিবর্তনের সাথে সাথে মিশ্র তন্তুর ব্যবহার বাড়ছে, কিন্তু এই জটিল তন্তু আলাদা করে তা থেকে সুতা তৈরির উচ্চতর প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে এখনো দুর্লভ। ফলে এই ধরনের বর্জ্যের একটি বিশাল অংশ শেষ পর্যন্ত ভাগাড়ে বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব
বিশ্বের অনেক দেশেই পোশাক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বা ক্লাস্টার রয়েছে। বাংলাদেশে এই খাতের উদ্যোক্তারা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা বাছাই (Sorting), ক্লিনিং এবং সুতা তৈরির জন্য যে কেন্দ্রীয় সরবরাহ চেইন প্রয়োজন, তার অভাবে অনেক বড় বিনিয়োগকারী এই খাতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সরকারি পর্যায়ে কোনো ডেটাবেজ না থাকায় কোন এলাকা থেকে কতটুকু বর্জ্য পাওয়া যাবে, তার সঠিক হিসাবও কারখানাগুলোর কাছে নেই।
পরিশেষে, শুধু সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেই ৮ বিলিয়ন ডলার ঘরে আসবে না। এজন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক রিসাইক্লিং নীতিমালা এবং আমদানিকৃত উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্কছাড়। প্রযুক্তি ও নীতির এই মেলবন্ধন না ঘটলে বাংলাদেশের ঝুট অন্যের দেশেই পাচার হতে থাকবে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান।