Home আগরতলা বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের অস্তিত্বের লড়াই

বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের অস্তিত্বের লড়াই

নেপথ্যে মানিক সরকারের রণকৌশল

ডিএন রাকেশ, আগরতলা: ২০১৮ সালের পর ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি, আর ২০২৩-২৪-এর পর সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের এডিসি (Tripura Tribal Areas Autonomous District Council) নির্বাচনেও খাতা খুলতে না পারা—বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা রাজ্যে বামফ্রন্ট এখন এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে। তবে নির্বাচনী অঙ্কে ধস নামলেও মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছে সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্ট। আর এই ক্রান্তিকালে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে আছেন টানা ২০ বছর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা মানিক সরকার।
নির্বাচনী বিপর্যয় ও বর্তমান তৎপরতা
ত্রিপুরার উপজাতি পরিষদ (ADC) নির্বাচনে ‘তিপ্রা মথা’ এবং বিজেপির দাপটে বামফ্রন্ট কোনো আসন তো পায়-ইনি, উল্টো তাদের ভোটব্যাংক ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। তা সত্ত্বেও রাজ্যে বিজেপির শাসন, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিয়ত সোচ্চার তারা। সম্প্রতি ২০২৬ সালের এপ্রিলে ধর্মনগর উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং বিভিন্ন জনসভায় বামফ্রন্ট নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
দলীয় কর্মীদের ওপর শাসকদলের কথিত রাজনৈতিক হামলা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে প্রতিনিয়ত রাজপথে মিছিল-সমাবেশ করছে তারা।
মাঠের লড়াইয়ে মানিক সরকার: আসন সংখ্যা শূন্য হলেও সংগ্রাম চলবে
সরাসরি সংসদীয় নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও ত্রিপুরার রাজনীতিতে মানিক সরকারের ছায়া এখনো দীর্ঘ। সমকালী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার ‘বামমুক্ত ত্রিপুরা’ দাবির পালটা জবাবে মানিক সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বামপন্থীদের লড়াই কেবল ভোটের আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ধর্মনগরের এক সাম্প্রতিক জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ৭৭ বছর বয়সী এই জননেতা বলেন:

“ভোটাধিকার কেড়ে নিলে যেকোনো ফলাফলই দেখানো সম্ভব। কিন্তু জনগণের অধিকার, রুটি-রুজি আর গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াই নির্বাচনী সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বামফ্রন্ট ক্ষমতা বা আসনের তোয়াক্কা না করে প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে মাঠে থাকবে।”

তিনি বর্তমান সরকারের আমলের বেকারত্ব ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল স্তরে জনমত গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ এবং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার ক্ষেত্রেও তিনি নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বামেরা
ত্রিপুরার বর্তমান রাজনীতিতে বামফ্রন্টের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ দুটি—প্রথমত, বাঙালি ও উপজাতি (Tribal) ভোটারদের সমীকরণ পুনরুদ্ধার করা, যা বর্তমানে তিপ্রা মথা ও বিজেপির দখলে। দ্বিতীয়ত, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করা। মানিক সরকারের ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দলের নৈতিক বল ধরে রাখলেও, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা ভোটব্যাংকে কতটা রূপান্তর করা যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।