Home Second Lead চিটাগাং চেম্বারে নতুন সূর্য: অশ্রুসিক্ত চোখে সভাপতির আসনে আমিরুল হক

চিটাগাং চেম্বারে নতুন সূর্য: অশ্রুসিক্ত চোখে সভাপতির আসনে আমিরুল হক

 কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: নানা চড়াই-উতরাই আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিআইআই) শীর্ষ পদে আসীন হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তিনি সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই প্রাপ্তির পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ অভিমান, উপেক্ষা এবং নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প, যা যেকোনো সাহিত্যের পটভূমিকেও হার মানায়।
এক উপেক্ষার গল্প ও দীর্ঘ নির্বাসন
মোহাম্মদ আমিরুল হক চিটাগাং চেম্বারের কোনো নতুন মুখ নন। এর আগে তিনি পাঁচবার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের ঝড়ো দিনগুলোতে চট্টগ্রাম বন্দরের আমূল সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রধান স্থপতি ছিলেন তিনি। তার সেই বলিষ্ঠ ভূমিকা আজও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মনে দাগ কেটে আছে।
 নিয়তির চাকা সবসময় সোজা পথে চলে না। পঞ্চম মেয়াদে যখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই সিনিয়র সহ-সভাপতি পদের জন্য জোরালো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, তখন এক অদৃশ্য দেয়াল তার সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই সময়ে চেম্বারের ভাগ্যবিধাতা এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রক ছিলেন তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতার সমীকরণে সেবার আমিরুল হকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। যোগ্যতার অবমূল্যায়ন আর তীব্র অভিমানে তিনি দীর্ঘ প্রায় দু দশক ধরে চেম্বারের আঙিনায় পা রাখেননি। এক সময়ের প্রাণপুরুষ নিজেকে গুটিয়ে নেন এক নীরব নির্বাসনে।
কালের আবর্তন ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
সময় কখনো এক জায়গায় স্থির থাকে না। পটপরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে দেশের রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্দরে। একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা এম আবদুল লতিফ এখন কারাবন্দী, আর চেম্বারের অলিন্দে বেজে উঠেছে নতুন দিনের গান।
এবার আমিরুল হকের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের পেছনে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছেন চেম্বারের সাবেক সফল সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি  প্রখ্যাত শিল্পপতি এম এ সালামসহ অন্য অগ্রজ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাদের দূরদর্শিতা আর আশীর্বাদে দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত এই শিল্পপতি অবশেষে সিসিআইআই-এর সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হলেন।
অশ্রুসিক্ত সেই মহেন্দ্রক্ষণ
নির্বাচনে জয়ের পর যখন শুভাকাঙ্ক্ষী ও ব্যবসায়ী সমাজ বর্ণিল পুষ্পস্তবক নিয়ে নতুন সভাপতিকে অভিনন্দন জানাতে আসেন, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। চারপাশের করতালি আর স্লোগানের মাঝে হঠাৎ করেই থমকে যায় সময়।
ফুলের সুবাস আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলোয় ভেসে ওঠে এক আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ বছরের জমানো ক্ষোভ, উপেক্ষা, অভিমান আর আজকের এই পরম প্রাপ্তি—সব যেন এক হয়ে মিশে গেল আমিরুল হকের চোখে। অভিনন্দন গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি আর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারলেন না। দুই হাত দিয়ে চোখ ঢাকলেন, গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল আনন্দ আর স্বস্তির অশ্রু। উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে রইলেন এক বীরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিজয়ের এই অশ্রুসিক্ত মহেন্দ্রক্ষণ দেখে। এই কান্না কোনো দুর্বলতার ছিল না, এ ছিল এক চরম সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেঘ কেটে সূর্যের হাসির মতো এক পরম পাওয়া।
 businesstoday24.com ফলো করুন।