Home আন্তর্জাতিক ভাঙল ৭৯ বছরের রেকর্ড, মে-র গরমে পুড়ছে লন্ডন

ভাঙল ৭৯ বছরের রেকর্ড, মে-র গরমে পুড়ছে লন্ডন

আজহার মুনিম শাফিন, লন্ডন: লন্ডনে মে মাসের গরমে ভেঙে গেছে দীর্ঘ ৭৯ বছরের আবহাওয়ার রেকর্ড। সাধারণত মে মাসে যেখানে মৃদু ও মনোরম আবহাওয়া আশা করা হয়, সেখানে এবার শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এবং তীব্র এক দাবদাহ।
ব্রিটিশ আবহাওয়া অফিস- এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মে (সোমবার) লন্ডনের কিউ গার্ডেনসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এটি আবহাওয়া বিজ্ঞানের ইতিহাসে ব্রিটেনের মে মাস এবং সামগ্রিক বসন্তকালের (মার্চ-মে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে মে মাসে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯২২ সালে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার ১৯৪৪ সালে, যার পরিমাণ ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, দীর্ঘ ৭৯ বছর পর আগের রেকর্ডটিকে এক ধাক্কায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এই বছরের তাপমাত্রা।
রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের চিত্র
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে তীব্র তাপ তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হিথ্রোতে তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং নর্থহোল্ট এলাকায় রেকর্ড করা হয় ৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরো দেশজুড়ে অন্তত ৯৭টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে।
শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতের তাপমাত্রাতেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ লন্ডনের কেনলি এয়ারফিল্ডে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি, যাকে আবহাওয়াবিদেরা ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মে মাসে এর আগে এতটা উষ্ণ রাত আর কখনো দেখেনি ব্রিটেনবাসী।
জনজীবনে প্রভাব ও সতর্কতা
হঠাৎ এই তীব্র দাবদাহের কারণে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (UKHSA) লন্ডন, সাউথ ইস্ট এবং ইস্ট মিডল্যান্ডস জুড়ে ‘অ্যাম্বার হিট হেলথ অ্যালার্ট’ বা সতর্কবার্তা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হতে এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিভিন্ন স্থানে ঘাস ও বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের খবরও পাওয়া গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণেই আবহাওয়ার এই চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মে মাসে এই ধরণের তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা আগের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেড়ে গেছে। অতীতে যা ১০০ বছরে একবার ঘটত, তা এখন প্রতি ৩৩ বছরে একবার ঘটার তীব্র ঝুঁকিতে রূপ নিয়েছে।
আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন।