শিপিং ডেস্ক: সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আধা-স্বায়ত্তশাসিত পান্টল্যান্ড রাজ্যের নুগাল উপকূলে দীর্ঘ ১০ দিন জলদস্যুদের কবলে থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়েছে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি লুতুফ’ । তবে জাহাজটির মুক্তি নিয়ে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং পান্টল্যান্ডের স্থানীয় আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ একে সফল রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান বলে দাবি করলেও স্থানীয় প্রশাসন মুক্তিপণের বিনিময়ে জাহাজ ছাড়ার অভিযোগ তুলেছে।
সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট সোমালিয়া উপকূল থেকে তুরস্ক-সংশ্লিষ্ট কার্গো জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর তুরস্ক ও সোমালিয়ার মধ্যকার সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সোমালি সশস্ত্র বাহিনী এবং তুর্কি নৌবাহিনী যৌথভাবে ১০ দিনব্যাপী অভিযান চালায়।
সোমালি ফেডারেল সরকারের দাবি, ২৯ আগস্ট সমাপ্ত এই অভিযানে ১৪ জন জলদস্যু নিহত হয় এবং তাদের ব্যবহৃত ৪টি বোট ধ্বংস করা হয়। যৌথ বাহিনীর তীব্র সামরিক চাপের মুখে অবশিষ্ট জলদস্যুরা জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে গেলে ক্রুদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে জাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। স্থানীয় গোদোব জিরান জেলার প্রবীণ প্রতিনিধিরাও আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এপির কাছে ক্রুসহ জাহাজ মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, পান্টল্যান্ড রাজ্যের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন এই সামরিক অভিযানের দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পান্টল্যান্ড কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কোনো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জাহাজ মুক্ত করা হয়নি; বরং সোমালি কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যস্থতায় আঙ্কারা জলদস্যুদের আড়াই মিলিয়ন (২৫ লাখ) মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি ছাড়িয়ে নিয়েছে।
পান্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাইদ আবদুল্লাহি দেনি অভিযোগ তুলেছেন, তুরস্কের নৌবাহিনী সাগরে নিরীহ জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের জলদস্যু হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নৌকা ধ্বংস করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এভাবে মুক্তিপণ পরিশোধের ঘটনা সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের আরও উৎসাহিত করবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।
তুরস্কের তেকিরদাগ বন্দর থেকে তানজানিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া জাহাজটিতে ভারতীয়, তুর্কি, জর্জিয়ান ও সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতার পুনরুত্থান এবং দফায় দফায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা যখন বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য পথকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলছে, তখন এমভি লুতুফ উদ্ধারের এই ঘটনায় আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও কেন্দ্রীয়-আঞ্চলিক মতবিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।