Home First Lead  স্ক্র্যাপের বৈশ্বিক বাজারে চট্টগ্রামের আধিপত্য: শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

 স্ক্র্যাপের বৈশ্বিক বাজারে চট্টগ্রামের আধিপত্য: শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপ জাহাজের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ছোট ও মাঝারি ট্যাঙ্কার কেনায় আগ্রাসী অবস্থান ধরে রেখেছেন চট্টগ্রামের রিসাইক্লাররা। সাম্প্রতিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি দর দিয়ে জাহাজ কিনছেন স্থানীয় আমদানিকারকেরা।
বর্তমানে চট্টগ্রামে ট্যাঙ্কার জাহাজের প্রতি লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টন (LDT) দর উঠেছে ৪৭০ থেকে ৪৭৫ মার্কিন ডলার। কনটেইনার জাহাজের ক্ষেত্রে এই দর পৌঁছেছে সর্বোচ্চ ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মার্কিন ডলারে। ফলে আন্তর্জাতিক রিসাইক্লিং বাজারে চট্টগ্রাম এখন সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।
বিপরীতে ভারতের আলাং বাজারে চাহিদা কিছুটা স্থবির। যদিও সেখানে স্থানীয় স্টিলের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৯,৫০০ রুপিতে ঠেকেছে, তবুও বড় জাহাজ কেনায় ভারতীয় ক্রেতাদের দ্বিধা স্পষ্ট। সম্প্রতি পাইন অ্যারো নামের বড় জাহাজটি ৪৪৫ ডলার এলডিটি দরে বিক্রি হয়েছে।
পাকিস্তানের গাদানি বাজারে স্টিল প্লেটের দাম প্রতি টন প্রায় ২ লাখ রুপির কাছাকাছি থাকায় বাজার স্থিতিশীল, তবে পর্যাপ্ত স্ক্র্যাপ জাহাজের সংকটে ভুগছে তারা। ইউরোপীয় মান বজায় রাখা তুরস্কের আলিয়াগা ইয়ার্ডে দাম এখনও দক্ষিণ এশিয়ার চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করছে।
জাহাজ কেনাবেচার অন্যান্য আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে নির্মিত সুয়েজম্যাক্স ‘ব্রিস্টল’ বিক্রি হয়েছে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। অথচ ২০০৭ সালে নির্মিত ‘সোনাঙ্গোল নামিবে’ মাত্র ৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া প্রমাণ করে পুরনো ট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রে বাজারে বড় ছাড় চলছে। এছাড়া গ্রিক ক্রেতারা ২১.৯ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে ‘মারস্ক কেট’। চীনের ইয়ার্ডে মিনশেং ও ডাইনাকমের দেওয়া আটটি নতুন ভিএলসিসি (VLCC) অর্ডারের প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১২২ থেকে ১২৫ মিলিয়ন ডলারে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বজুড়ে ৪৯৬টি ড্রাই বাল্ক বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি।
বৈশ্বিক স্ক্র্যাপ স্টিলের দাম আজ ৪১৩ মার্কিন ডলারে নেমে আসায় সার্বিক বাজারে কিছুটা মন্দার ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা জাহাজ ভাঙা শিল্পের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। তবে বৈশ্বিক নানা সংকট সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার ৪৪৫ থেকে ৪৮৫ ডলার এলডিটি রেঞ্জের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়ে বৈশ্বিক স্ক্র্যাপ বাজারের নেতৃত্ব নিজেদের হাতেই রেখেছে চট্টগ্রামের ইয়ার্ডগুলো।