বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: পবিত্র হজ পালন প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পরম আরাধ্য। এই পবিত্র আবেগকে পুঁজি করে প্রতি বছরই এক শ্রেণির অসাধু হজ এজেন্সি এবং মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র হজযাত্রীদের সাথে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জ ও মফস্বল এলাকার সাধারণ মানুষ এদের সহজ শিকারে পরিণত হন।
যেভাবে তৈরি হয় প্রতারণার জাল
হজ এজেন্সিগুলো সরাসরি হজযাত্রী সংগ্রহের চেয়ে মাঠপর্যায়ে নিয়োগকৃত ‘এজেন্ট’ বা দালালদের ওপর বেশি নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিচিত কাউকে কমিশন দিয়ে এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তারা হজযাত্রীদের আকাশচুম্বী সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ করায়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর।
চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার সাধারণ চিত্র
পরিচয় অস্বীকার: অনেক সময় দালালরা হাজিদের কাছ থেকে টাকা নিলেও তা মূল এজেন্সির কাছে সময়মতো জমা দেয় না। সৌদি আরবে গিয়ে হাজিরা যখন সমস্যার কথা বলেন, তখন এজেন্সি কর্তৃপক্ষ সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, তাদের সাথে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি বা ওই ব্যক্তি তাদের নিবন্ধিত হাজিই নন।
আবাসন নিয়ে জালিয়াতি: চুক্তিতে হারাম শরিফ বা কাবা ঘরের খুব কাছে আবাসনের কথা বলা হলেও বাস্তবে হাজিদের রাখা হয় ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে। দূরত্বের কারণে অনেক বয়স্ক হাজি নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়তে পারেন না, যা তাদের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মিনা ও আরাফাতে অব্যবস্থাপনা: হজের মূল সময় অর্থাৎ মিনা ও আরাফাতের ময়দানে অনেক এজেন্সি পর্যাপ্ত তাঁবুর ব্যবস্থা রাখে না। তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে বা গাদাগাদি করে তাঁবুতে থাকতে গিয়ে অনেক হাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কুরবানি ও খাবারের নিম্নমান: কুরবানির টাকা নিয়ে পশু না কেনা, দেশি খাবারের বদলে নিুমানের খাবার দেওয়া এবং জিয়ারতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা এখনকার নিয়মিত অভিযোগ।
প্রতারিত হলে কোথায় যাবেন?
হজযাত্রীদের অধিকার রক্ষায় সরকারের কঠোর আইন রয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে বা চুক্তিভঙ্গ হলে চুপ করে থাকা যাবে না।
১. সৌদি আরবে অভিযোগ: হজের সময় মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশ সরকারের ‘হজ মিশন’ সক্রিয় থাকে। সেখানে সরাসরি হজ অফিসে গিয়ে অথবা তাদের দেওয়া হটলাইন নম্বরে লিখিত অভিযোগ করা যায়।
২. দেশে ফিরে আইনি প্রতিকার: সৌদি আরব থেকে ফেরার ৩০ দিনের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগের সাথে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ বা চুক্তিনামা সংযুক্ত করতে হবে।
৩. অনলাইন অভিযোগ: সরকারি হজ পোর্টাল (hajj.gov.bd) বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত এবং জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
যেকোনো লেনদেন সরাসরি এজেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা এবং প্রতিটি পেমেন্টের জন্য দাপ্তরিক রসিদ বুঝে নেওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তির মৌখিক আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হয়ে লিখিত চুক্তিনামায় সব সুযোগ-সুবিধার বিবরণ স্পষ্ট থাকা নিশ্চিত করতে হবে।