Home কৃষি আগর শিল্পে বিপ্লব: মৌলভীবাজারের পাহাড় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজপ্রাসাদে

আগর শিল্পে বিপ্লব: মৌলভীবাজারের পাহাড় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজপ্রাসাদে

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় বংশপরম্পরায় চলে আসা আগর-আতর শিল্প এখন দেশের অন্যতম উদীয়মান রপ্তানি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এক সময় কেবল শৌখিন আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও বিশ্ববাজার আগর গাছ থেকে উৎপাদিত আতর বা সুগন্ধি তেল এবং আগর কাঠ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আগর পণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে এই খাতের বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

গবেষকদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এই খাতের উন্নয়ন করা গেলে বাংলাদেশ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। সরকারিভাবে আগরকে ‘জাতীয় বৃক্ষসম্পদ’ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে শিল্প পার্কে গ্যাস সংযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলে রপ্তানির পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব আগর শিল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। চারা রোপণ থেকে শুরু করে গাছ কাটা, কাঠের চিলতে করা এবং ডিস্টিলেশন বা পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল সংগ্রহ—প্রতিটি ধাপে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি একটি বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বসতবাড়ির আঙিনায় আগর চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বড় বড় কারখানাগুলো আধুনিকায়ন হওয়ায় সেখানে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের শ্রমিকের কর্মসংস্থান বাড়ছে।

চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রতিবন্ধকতা এই শিল্পের গতি রোধ করছে। উন্নত প্রযুক্তির অভাব, কাঁচামালের স্বল্পতা এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বা সাইটিস (CITES) সনদের সীমাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে, তবে আগর শিল্প হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘তৈরি পোশাক শিল্প’।

সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষা করার পাশাপাশি এই ‘তরল সোনা’ বাংলাদেশের অর্থনীতির মানচিত্র বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।