Home আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের চোখে ‘অসম্ভব’, তবুও সৌদির আগে ঈদ: এক রহস্যময় শুরু

বিজ্ঞানের চোখে ‘অসম্ভব’, তবুও সৌদির আগে ঈদ: এক রহস্যময় শুরু

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও তৈরি হয়েছে এক অনন্য এবং বৈজ্ঞানিক বিতর্কের প্রেক্ষাপট। আজ শুক্রবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যখন রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, সেখানে আফগানিস্তান, নাইজার এবং মালির মতো দেশগুলো গতকাল বৃহস্পতিবারই (১৯ মার্চ) ঈদ পালন করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই একদিনের ব্যবধান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
১. বিজ্ঞানের তথ্য: ১৮ মার্চ কি চাঁদ দেখা সম্ভব ছিল?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গত বুধবার (১৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সময় (UTC) সকাল ৯টা ২২ মিনিটে ‘নতুন চাঁদ’-এর জন্ম (Conjunction) হয়। কোনো দেশের আকাশে চাঁদ দেখতে হলে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স অন্তত ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা হতে হয় এবং দিগন্ত থেকে এর উচ্চতা ৫ ডিগ্রির বেশি থাকতে হয়।
১৮ মার্চ সূর্যাস্তের সময় আফগানিস্তান বা আফ্রিকার দেশগুলোতে চাঁদের বয়স ছিল মাত্র ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। মহাকাশ বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, এই অল্প বয়সের চাঁদ পৃথিবীর কোনো প্রান্ত থেকেই খালি চোখে দেখা যাওয়ার কথা নয়। এমনকি উন্নত টেলিস্কোপেও তা ধরা পড়ার সম্ভাবনা ছিল শূন্যের কাছাকাছি।
২. কেন এই আগাম ঈদ?
আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এবং আফ্রিকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশের একাধিক নাগরিক ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার ‘সাক্ষ্য’ দিয়েছেন। শরিয়ত অনুযায়ী, যদি নির্ভরযোগ্য একাধিক ব্যক্তি চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান করেন, তবে বৈজ্ঞানিক হিসাবের চেয়ে সেই বাস্তব সাক্ষ্যকেই (Ru’yat-e-Hilal) অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দিগন্তের কাছে শুক্র গ্রহ বা অন্য কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্রকে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ভুলবশত চাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন।
৩. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বৈচিত্র্য
সাধারণত সৌদি আরবকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ঈদ পালন করে থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের চিত্রটি ছিল ভিন্ন:
  • আফগানিস্তান ও মালি: বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঈদ পালন করেছে।
  • সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য: আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপন করছে।
  • বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া: গতকাল চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ পালিত হবে।
৪. জ্যোতির্বিজ্ঞানের সিদ্ধান্ত বনাম ধর্মীয় রীতি
বিজ্ঞান বলছে, ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার চাঁদ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল, যা সারা বিশ্ব থেকে সহজেই দেখা গেছে। কিন্তু ১৮ মার্চের চাঁদ ছিল গাণিতিকভাবে ‘অদৃশ্য’। এই বৈপরীত্য বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ক্যালেন্ডার একীভূত করার দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং দিগন্তের পার্থক্যের কারণে একদিনের ব্যবধান স্বাভাবিক হলেও, বিজ্ঞানের হিসেবে যা ‘অসম্ভব’ তা নিয়ে ধর্মীয় মহলে আরও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।