Home সারাদেশ অপরাধ করল ঝাড়ুদার, ডিবি ওসির রোষানলে বলির পাঁঠা কেয়ারটেকার

অপরাধ করল ঝাড়ুদার, ডিবি ওসির রোষানলে বলির পাঁঠা কেয়ারটেকার

অভিযুক্ত ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম।

পিরোজপুর ডিবি ওসিসহ ৩ জন ক্লোজড

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, পিরোজপুর: পিরোজপুরে পুলিশ অফিসার্স মেসের এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে গলিত মোম ঢেলে ঝলসে দেওয়ার মতো রোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছে খোদ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা
ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশ অফিসার্স মেসের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) দুপুরে ডিবি ওসি আরিফুল ইসলামের কক্ষের চাবি হারানোকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। ওসি তার কক্ষ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে ইউনুসকে দায়ী করেন।
ইউনুস চুরির কথা অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিবি পুলিশের ৭-৮ জন সদস্য মিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং বৈদ্যুতিক শক দেয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার চিৎকার বন্ধ করতে মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সবচেয়ে অমানবিক ঘটনা ঘটে রান্নাঘরে; যেখানে ওসির ঘনিষ্ঠ ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে ইউনুসের পুরুষাঙ্গে দীর্ঘ আধা ঘণ্টা ধরে মোমবাতি গলিয়ে ঢালা হয়।
প্রকৃত চোর শনাক্ত ও টাকা উদ্ধার
নির্যাতন সইতে না পেরে ইউনুসের পরিবার সুদে টাকা ধার করে ওসি আরিফকে প্রদান করে। এরপর ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সুপার ভুক্তভোগীর বক্তব্য শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চুরির কথা স্বীকার করে এবং টাকা ফেরত দেয়। পরবর্তীতে ইউনুসের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও বর্তমান অবস্থা
ঘটনাটি ১৩ এপ্রিল ঘটলেও তা প্রকাশ্যে আসে ১৭ এপ্রিল। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা গোপন রাখতে ইউনুসকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এবং পরে খুলনায় নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানে তাকে মিথ্যা তথ্য দিতে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে তিনি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের চিকিৎসক স্বাধীন হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও আগুনের ছ্যাকার ক্ষত রয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ডিবি ওসি আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্যাতিত ইউনুস ও তার পরিবার এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।