স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মহোৎসব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে পাকিস্তানে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। রবিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘চতুর্ভুজ বৈঠক’ (Quadrilateral Meeting) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং তেহরানের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্ভাব্য আলোচনার পথ সুগম করা।
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে পাকিস্তান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তেহরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলজুড়ে যে যুদ্ধের মেঘ জমেছে, তা কাটাতে মুসলিম দেশগুলো এখন সংহতির পথ বেছে নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চতুর্ভুজ মেকানিজম মূলত ইরানের ওপর থেকে অযাচিত সামরিক চাপ কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের একটি জোরালো প্রচেষ্টা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক তৎপরতা
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, মিশরের বদর আবদেলাতি এবং সৌদি আরবের যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এই বৈঠকে যোগ দেন।
তুরস্ক ও পাকিস্তান: হাকান ফিদানের সাথে বৈঠকে ইসহাক দার ইরানের পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশই একমত হয়েছে যে, ডায়ালগ এবং টেকসই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাই পারে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে।
মিশর ও ফিলিস্তিন ইস্যু: মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার বিষয়েও দুই দেশ একমত পোষণ করে।
পাকিস্তান: ইরান-মার্কিন আলোচনার সেতুবন্ধন
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি আসলে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক দ্বার উন্মোচনের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। আগামী মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বৈঠক পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তেহরান বরাবরই বিশ্বাস তৈরির পদক্ষেপ (CBM) হিসেবে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে ওয়াশিংটন খুব শীঘ্রই একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে পারে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলও নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তান খুব শীঘ্রই এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ভেন্যু হতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মন্তব্য: “এই সংকটময় মুহূর্তে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর উপস্থিতি আমাদের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন। আমাদের আলোচনা মূলত আঞ্চলিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়নের ওপর কেন্দ্রীভূত।”










