বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি
বরগুনা: সমুদ্রের ইলিশ পুকুরে। তাও একটি দুটি নয়, ৯৫টি। পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী সিদাম মিয়া বাড়ির পুকুরে পাওয়া গেল এসব ইলিশ। প্রতিটির গড় ওজন ২০০ গ্রামের বেশি।
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার জাল ফেললে পুকুরটিতে বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির সঙ্গে ওঠে ইলিশ মাছও। পরে দেখা গেছে, ৯৫টি ইলিশ ধরা পড়েছে। পুকুরের মালিক অবশ্য কোনো ইলিশ বিক্রি করেননি। আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে মাছগুলো বিলিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, বড় পুকুরটির পাশে একটি খাল রয়েছে, যা বলেশ্বর নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ার দেখা দিলে পানি বেড়ে উপজেলার প্রায় সব পুকুর ও দীঘিতে নোনা পানি প্রবেশ করে। সে সময় নোনা পানির সঙ্গে সাগর ও নদীর মাছ এসব পুকুর ও দীঘিতে ঢুকে পড়ে।
এ ব্যাপারে পুকুরের অন্যতম মালিক মো. আলম চৌধুরী বলেন, পুকুরে ইলিশ পেয়ে বেশ ভালো লেগেছে। পুকুরে ইলিশ পাওয়ার খবর শুনে বেশ ভিড় জমে গিয়েছিল। ৯৫টি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। সেগুলো বিক্রি করিনি। যারা মাছ ধরছে তাদেরকে অর্ধেক দিয়ে দিয়েছি। বাকিগুলো আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়েছি। এই ইলিশের স্বাদ সমুদ্র ইলিশের মতোই।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব পুকুর থেকে ইলিশ মাছ ধরার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে প্রতিবছর ইলিশ ডিম ছেড়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে সেই ডিম অথবা জাটকা জোয়ারের পানির সঙ্গে গিয়ে নদী ও খাল তীরবর্তী বিভিন্ন পুকুর ও দিঘিতে ঢুকে পড়ে এবং সেখানেই বড় হয়। সে কারণেই আমরা বিভিন্ন সময় পুকুর এবং দিঘিতে ইলিশ মাছ পাওয়ার খবর পেয়ে থাকি।
এদিকে পুকুরে ইলিশ পাওয়ার খবরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুকুরের পাশেই হলতা নদী। আর এই নদী মিশেছে বিষখালী নদীর সঙ্গে। পুকুরের সঙ্গে হলতা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। তাই জোয়ারের সঙ্গে জাটকা ঢুকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










