বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ( বিপিসি )’র অন্যতম সাবসিডিয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড-এর প্রায় ১২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার অর্জিত সুদ বা মুনাফা আদায় এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। এই নজিরবিহীন তারল্য সংকট ও অনাদায়ী সুদের কারণে কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসায়িক স্বস্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই চরম উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। দেশের কয়েকটি চরম সংকটাপন্ন ও দুর্বল ব্যাংকে কোম্পানিটির বিশাল অঙ্কের আমানত থাকায় এই ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্বল ব্যাংকে আমানতের ফাঁদ ও অনিশ্চিত সুদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি নাজুক ও তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকে যমুনা অয়েলের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত এবং বিশেষ নোটিশ আমানত (SND) রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এসব আমানত থেকে প্রায় ১২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার সুদ অর্জিত হলেও তা ব্যাংকিং জটিলতা ও ব্যাংকগুলোর চরম আর্থিক দৈন্যদশার কারণে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কোম্পানি এটিকে নিয়মানুযায়ী নিজেদের আয় হিসেবে দেখাতে পারেনি।
আয়ের বড় উৎসে ধস ও নিট মুনাফায় বড় আঘাত
যমুনা অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানা, তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে মূলত বিভিন্ন ব্যাংক আমানত ও সরকারি বন্ডের সুদ থেকে। তবে ব্যাংকগুলো থেকে সময়মতো এই সুদ বা মুনাফা না পাওয়ায় কোম্পানির অন্যান্য আয় গত বছরের তুলনায় মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। গত বছর জুলাই ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৯ মাসে যেখানে অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছিল ৫৫৪.০২ কোটি টাকা, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩০.১৬ কোটি টাকায়। আয়ের প্রধান এই উৎসে ধস নামার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোম্পানির চূড়ান্ত মুনাফায়। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৪০৪.৬৯ কোটি টাকা থেকে কমে ২৯৩.৪২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) আগের বছরের ৩৬.৬৫ টাকা থেকে এক ধাক্কায় ২৬.৫৭ টাকা-তে নেমে গেছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চিন্তার কারণ।
শুধু ব্যাংক সুদের ক্ষতিই নয়, যমুনা অয়েল তাদের মূল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবসা থেকেও আশানুরূপ লাভ করতে পারছে না। আলোচ্য ৯ মাসে পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে নিট উপার্জন ১১০.৮৩ কোটি টাকা থেকে কমে ১০২.৭০ কোটি টাকা হয়েছে। যার ফলে সামগ্রিক পরিচালন মুনাফা ২৬.৮১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৩৩.৫৮ কোটি টাকা। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২.৩৬ কোটি টাকার নিট পরিচালন লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে মূল ব্যবসায় মার্জিন কমে যাওয়া, অন্যদিকে ব্যাংকে জমানো টাকার সুদ আটকে থাকা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।
businesstoday24.com-এর সম্মানিত পাঠক, দুর্বল ব্যাংকে যমুনা অয়েলের বিপুল পরিমাণ সুদ আটকে থাকা এবং এই আর্থিক ঝুঁকি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবস্থাপনায় এমন উদাসীনতা নিয়ে আপনার মতামত কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং অর্থনৈতিক খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন।