ঢাকা: দেশের অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দের অপ্রতুলতা জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে হৃদরোগে মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বিএমএ ভবনে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় ‘প্রজ্ঞা’ আয়োজিত “উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: অগ্রগতি, বাধা এবং করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।
অর্থায়নের সংকট ও ওষুধের প্রাপ্যতা
কর্মশালায় জানানো হয়, টেকসই অর্থায়নের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর এনসিডি কর্নারে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন, যার ৫২ শতাংশেরই মূল কারণ ছিল উচ্চ রক্তচাপ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্তরে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিয়মিত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে এই মৃত্যুহার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বাজেট বরাদ্দ: জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের আলোচনায় জানান, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে অসংক্রামক রোগের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
সরকারের অবস্থান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. গীতা রানী দেবী বলেন, “সরকার ওষুধ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করতে নিরলস কাজ করছে। দ্রুতই সব কমিউনিটি ক্লিনিকে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা: ঢাকা ট্রিবিউন-এর সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।—সংবাদ বিজ্ঞপ্তি