অব্যবস্থাপনা ও প্রাণহানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কের জাহাজ ভাঙা শিল্পে (Shipbreaking) চরম অব্যবস্থাপনা, কম মজুরি এবং নিয়মিত শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা এই অমানবিক পরিস্থিতি বন্ধ করতে এবং আলিয়াগা (Aliağa) অঞ্চলের ইয়ার্ডগুলোর প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দেওয়া স্বীকৃতি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি
আলিয়াগা অঞ্চলের জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে:
১১ জানুয়ারি, ২০২৬: ব্লেড শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি ক্রেনের হুক ছিঁড়ে পড়ে সালাহ আতামান (৪৯) নামে এক শ্রমিক নিহত হন।
১৩ নভেম্বর, ২০২৫: ইইউ তালিকাভুক্ত তেমুরতাশলার ইয়ার্ডে হাসান আকতেপে (৪৪) নামে একজন শ্রমিক মারা যান, যখন জাহাজের ওপরের অংশ থেকে একটি ধাতব খণ্ড তার ওপর পড়ে।
২ অক্টোবর, ২০২৫: ইজমির মাভি দেনিজচিলিক ইয়ার্ডে পাঁচ মিটার উচ্চতা থেকে পড়ে নিহত হন খলিল ইব্রাহিম উজ (৪৫)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অ্যাম্বুলেন্স আসতে ৪৫ মিনিট দেরি হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তুর্কি পার্লামেন্ট সদস্যের উদ্বেগ
লেবার পার্টির এমপি ইস্কেন্দার বায়হান জানান, দারিদ্র্যসীমার নিচে মজুরি পাওয়ায় শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, মন্ত্রণালয় সব জেনেও কেবল বিদ্যমান আইনের ‘কপি-পেস্ট’ তথ্য দিয়ে দায় এড়াচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ইইউ তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ইস্তাম্বুল ওয়ার্কার্স হেলথ অ্যান্ড সেফটি ওয়াচ-এর আসলি ওডমান জানান, আলিয়াগা অঞ্চলে মৃত্যুর হার তুরস্কের গড় মৃত্যুহারের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বলেন:
“ইইউ তালিকাভুক্ত ইয়ার্ডগুলোতেও যখন এমন প্রাণহানি ঘটে, তখন ইইউর অডিটিং প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ইয়ার্ডগুলোকে ইইউ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।”










