বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫: আর্থিক সূচকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিশ্ব অর্থনীতির ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশীয় বাজারের তারল্য সংকট ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘উত্তরা ব্যাংক পিএলসি।’ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
| বিবরণ | ২০২৫ সাল (কোটি টাকায়) | ২০২৪ সাল (কোটি টাকায়) | প্রবৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| মোট সম্পদ | ৩২,১৪২.৬৭ | ২৬,৮৮২.৯৬ |
১৯.৫৭% |
| গ্রাহক আমানত | ২৬,৮৪৯.৬৯ | ২২,২৭৮.৭৫ |
২০.৫২% |
| ঋণ ও অগ্রিম | ২২,০১৭.০১ | ১৮,৯১২.৩৫ |
১৬.৪২% |
| মোট বিনিয়োগ | ৭,৩৮৯.০২ | ৪,৭৯৩.৯৪ |
৫৪.১৩% |
| কর-পূর্ব মুনাফা | ৯৬৮.২৭ | ৯১৩.৬৯ |
৫.৯৭% |
| কর-পরবর্তী নিট মুনাফা | ৫৯৭.৮৫ | ৪৮৮.০১ |
২২.৫১% |
আর্থিক পারফরম্যান্সের বিশদ বিশ্লেষণ
আমানত ও ঋণ বৃদ্ধি: ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ২৬,৮৪৯.৬৯ কোটি টাকা। আকর্ষণীয় আমানত প্রকল্প এবং গ্রাহক আস্থার কারণে আমানতে ২০.৫২% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, সুষম পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঋণ ও অগ্রিম ১৬.৪২% বৃদ্ধি পেয়ে ২২,০১৭.০১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
বিনিয়োগের খাত: ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। মোট ৭,৩৮৯.০২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডেই রয়েছে ৬,৪৩৪.৫৫ কোটি টাকা। এর ফলে বিনিয়োগ আয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬১.৫২% বৃদ্ধি পেয়ে ৬০১.৭১ কোটি টাকা হয়েছে।
মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় (EPS): ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,২০৯.৬৭ কোটি টাকা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ২২.৫১% বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯৭.৮৫ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ৬.১৬ টাকা, যা বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশংসনীয়।
মূলধন পর্যাপ্ততা (CRAR): বাসেল-৩ কাঠামো অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন সংরক্ষণে ব্যাংক অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বাফারসহ ১২.৫০% আবশ্যকীয় হারের বিপরীতে উত্তরা ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার দাঁড়িয়েছে ১৭.১৪%, যা ব্যাংকের মজবুত আর্থিক ভিত্তির প্রমাণ।
মন্দ ঋণ পরিস্থিতি: ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক অস্থিরতা সত্ত্বেও উত্তরা ব্যাংক মন্দ ঋণ নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট রয়েছে। ২০২৫ সালে মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,০৬৪.৬৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ১,০৬১.৯৩ কোটি টাকা।
টেকসই ব্যাংকিং ও সিএসআর (CSR) কার্যক্রম
উত্তরা ব্যাংক ২০২৫ সালে গ্রীন ফাইন্যান্সিংয়ে ১৭৭.৫৮ কোটি টাকা এবং টেকসই আর্থিক প্রকল্পে ৬,২৩১.৮৯ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যাংকটি ২.২৮ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছে, যার মধ্যে ‘জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সহায়তা তহবিল’, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল এবং বন্যা ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।
ক্রেডিট রেটিং ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ‘ECRL’ উত্তরা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং “AA” (খুব উচ্চ মান এবং সর্বনিম্ন ক্রেডিট ঝুঁকি) এবং স্বল্পমেয়াদি রেটিং “ST-2” ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে ১টি নতুন শাখা ও ৪টি উপশাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মোট অনলাইন শাখা ২৫০টি এবং উপশাখা ৪৮টিতে উন্নীত হয়েছে।
লভ্যাংশ ঘোষণা ও বার্ষিক সাধারণ সভা
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছরের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২৫.০০ শতাংশ স্টক এবং ৫.০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ১৫ই জুন, ২০২৬ রোজ সোমবার সকাল ১১:০০ টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) আহ্বান করা হয়েছে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ই-ওয়ালেট (eWallet) সেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি. আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে আরও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জনাব মোঃ আবুল হাশেম এবং চেয়ারম্যান জনাব আজহারুল ইসলাম।










