Home চট্টগ্রাম রাস্তা নাকি গুদামঘর? বায়েজিদ তারা গেটে সিটি কর্পোরেশনের ‘উন্নয়ন’ তামাশা

রাস্তা নাকি গুদামঘর? বায়েজিদ তারা গেটে সিটি কর্পোরেশনের ‘উন্নয়ন’ তামাশা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: নগরীর বায়েজিদ এলাকার তারা গেট সংলগ্ন সড়কটি দেখলে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন—এটি কি জনচলাচলের রাস্তা নাকি কোনো দোকানের গুদামঘর?
দীর্ঘ ৫ বছর আগে ঘটা করে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এবং কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সম্প্রসারণ করা হলেও তার সুফল মিলছে না সাধারণ মানুষের। উল্টো সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতায় রাস্তাটি এখন হকার ও দোকানদারদের দখলে।
সম্প্রসারণের নামে জনদুর্ভোগের নতুন রূপ
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ বছর আগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি প্রশস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশস্ত করার পর রাস্তার মাঝখানে বা দুপাশে রয়ে যাওয়া গাছগুলো অপসারণ করা হয়নি। ফলে গাড়ি চলাচলের পথে এসব গাছ এখন বড় বাধা। শুধু তাই নয়, বড় করা রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী দোকানদাররা।
ছবির দিকে তাকালে দেখা যায়, রাস্তার ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল বস্তা, পরিত্যক্ত আসবাবপত্র এবং দোকানের মালামাল। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হওয়ায় জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পথচারী ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
রাস্তাটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একজন চাকরিজীবী বলেন:
“রাস্তা বড় করার সময় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম যে যানজট কমবে। কিন্তু এখন দেখছি রাস্তা বড় করে লাভ হয়েছে দোকানদারদের। তারা তাদের দোকানের মালামাল রাস্তায় সাজিয়ে রাখে। আমাদের হাঁটতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ করে রাস্তা বড় করল, আবার তারাই সেই জায়গায় দোকান তৈরির অনুমতি দিচ্ছে বা দেখেও না দেখার ভান করছে। ফুটপাত তো নেই-ই, মূল সড়কের ওপরও এখন কেনাবেচা চলে। তাহলে উচ্ছেদ অভিযানের নামে এত টাকা খরচ করার মানে কী ছিল?”
সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, বায়েজিদ এলাকার আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। উচ্ছেদ করা জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পরোক্ষভাবে ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই সেবা কি নগরবাসীর জন্য, নাকি গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর পকেট ভারি করার জন্য?
চিত্র বিশ্লেষণ: যা বলছে এই ছবি
  • সংবাদচিত্রটি বায়েজিদের অরাজকতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ:
  • অব্যবস্থাপনা: রাস্তার ওপরই রাখা হয়েছে দোকানের ওজন মাপার যন্ত্র ও মালামাল।
  • পরিবেশ দূষণ: পিচঢালা রাস্তার একপাশে জমে আছে নর্দমার নোংরা পানি ও শ্যাওলা।
  • বিপজ্জনক গাছ: রাস্তার ঠিক মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো উচ্ছেদ পরবর্তী পরিকল্পনাহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
অবৈধ পার্কিং: দোকানের মালামালের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে।
নগরবাসীর দাবি, অতিদ্রুত রাস্তার মাঝখানের গাছগুলো অপসারণ করে এবং অবৈধ দখলদারদের হটিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। অন্যথায়, সিটি কর্পোরেশনের এই ‘উন্নয়ন’ কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।