মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রাজনীতির আকাশ যখনই উত্তাল হয়েছে, রাজপথ যখনই স্লগানে স্লগানে প্রকম্পিত হয়েছে—সেখানে একটি মুখ সব সময় সামনের সারিতে দৃশ্যমান থেকেছে। তিনি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক কাণ্ডারি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি। যার নামের সাথে মিশে আছে হাজারো কর্মীর আবেগ আর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের রাজপথের লড়াই।
লড়াকু সৈনিকের উত্থান
মোশাররফ হোসেন দীপ্তির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কোনো পুষ্পশয্যা ছিল না। শূন্য থেকে লড়াই করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় সংগঠনকে দিয়েছিলেন এক নতুন প্রাণ।
তার প্রতিটি নির্দেশনায় কর্মীরা খুঁজে পেত সাহসের রসদ। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি থেকে শুরু করে নাসিমন ভবন—প্রতিটি মোড় তার পদচারণায় মুখর থেকেছে।
কারাগার: যার দ্বিতীয় আবাস
বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক রোষানল থেকে মুক্তি পাননি এই লড়াকু নেতা। অসংখ্য মামলা আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন এক শহর থেকে অন্য শহরে। বারবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু আদর্শের সাথে আপস করেননি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসেও তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তার মনোবলকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিবারই তিনি আরও দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনে।
মানবিকতায় দীপ্তিমান এক হৃদয়
রাজনীতির কঠিন ময়দানের বাইরে মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে চেনা যায় এক অন্য রূপে। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সব সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে যখন মানুষ ঘরবন্দী ছিল, তখন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন অভাবী মানুষের দ্বারে।
সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বিচার-আচারেও তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং এক জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
“রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানে মানুষের মুক্তি এবং অধিকারের লড়াই। যতক্ষণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হবে, ততক্ষণ মাঠ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।” — মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি চট্টগ্রাম যুবদলের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তার নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং কর্মীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে দলের ভেতর এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চট্টগ্রামের যুব সমাজ তাকে চেনে এক আপসহীন সেনাপতি হিসেবে, যিনি রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে আগলে রেখেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির মশাল।