বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
স্থগিতের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে নির্বাচনী সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন পুরোপুরি বাতিল নয়, বরং আদালতের নির্দেশনার কারণে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশের ওপরই নির্ভর করছে এই দুই আসনের ভবিষ্যৎ।
সীমানা নিয়ে টানাপোড়েন
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসির প্রকাশিত গেজেট থেকে। সেখানে:
পাবনা-১: সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
পাবনা-二: সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।
এই সীমানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও আবু সাঈদ। হাইকোর্ট গত ১৮ ডিসেম্বর ইসির আগের গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ইসি তড়িঘড়ি করে গত ২৪ ডিসেম্বর নতুন গেজেট প্রকাশ করে, যেখানে সাঁথিয়া উপজেলার সাথে বেড়া উপজেলার কিছু অংশ যুক্ত করা হয়।
আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপ
ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেটের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল বিভাগে আবেদন করা হলে, গত ৫ জানুয়ারি আদালত ওই বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
আদালত জানান, লিভ টু আপিল দায়ের করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এর ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয় এবং ইসি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের অবস্থা
ইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অন্যান্য জেলার সীমানা মামলার নিষ্পত্তির জন্য কমিশন অপেক্ষা করলেও পাবনার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে গেজেট পরিবর্তন করায় এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি স্থগিতাদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি। চিঠি পাওয়ামাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।