Home চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল বেপরোয়া প্রাইভেট কার, পথচারী নিহত

এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল বেপরোয়া প্রাইভেট কার, পথচারী নিহত

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: মহানগরীর নিমতলা এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি প্রাইভেট কার নিচের সড়কে পড়ে এক পথচারী নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বন্দর থানার সামনের অংশে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. শফিক, বয়স ৫৫ বছর। তিনি সাইকেল আরোহী ছিলেন এবং বন্দরের কর্মী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িটি বিমানবন্দরের দিক থেকে আগ্রাবাদের দিকে বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। নিমতলা মোড়ে আসার পর ফ্লাইওভারের সীমানা দেয়ালের অংশ ভেঙে গাড়িটি নিচের সড়কে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত শফিককে উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় আহত চারজনের মধ্যে এক তরুণীসহ কয়েকজনকে বারিক বিল্ডিং মোড়ের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, গাড়িটি উড়ালসড়কের রেলিং ভেঙে পড়ে যাওয়ার পর তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গাড়ি ছিটকে নিচে পড়ে একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
উপপরিদর্শক মো. মাসুদ বলেন, দুর্ঘটনার সময় থানার ভেতর থেকে তারা বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হন। পরে দেখেন, গাড়িটি উল্টে পড়ে আছে এবং দুই যাত্রী সামান্য আহত অবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মাহমুদুল হাসান জানান, যে স্থানে গাড়িটি রেলিং ভেঙে পড়ে গেছে সেখানে একটি বাঁক রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলক চালুর পর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর পর চলতি নভেম্বরেই দু’টি প্রাইভেট কার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, গতিসীমা না মানা এবং মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ওঠানামার কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, এক্সপ্রেসওয়ের বাঁকগুলো স্বাভাবিক এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী। সিডিএর দাবি, চালকদের অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিসীমা এবং বাঁকযুক্ত অংশের ৪০ কিলোমিটারের সীমা চালকরা মানছেন না। কিছু স্থানে গতিরোধক থাকলেও তাতে কার্যকারিতা নেই। কোথাও নেই গতিমাপার ক্যামেরা বা মনিটরিং ব্যবস্থা। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।
লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের দেওয়ানহাট, বারিক বিল্ডিং, সল্টগোলা, ইপিজেড ও কাঠগড় এলাকায় বেশ কয়েকটি বাঁক রয়েছে। এসব স্থানে গতি নিয়ন্ত্রণ না করায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এমনকি গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের ছবি তুলতেও দেখা যায়, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়াচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গতিমাপার ক্যামেরা স্থাপন, নজরদারি জোরদার এবং গতিসীমা নিশ্চিতের ব্যবস্থা না নিলে এক্সপ্রেসওয়েটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।