Home Second Lead এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দরে অচলাবস্থা

এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দরে অচলাবস্থা

টানা কর্মবিরতিতে স্থবির কার্যক্রম

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতির ফলে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে।

কর্মবিরতির প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস এবং লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এর ফলে:
  • জেটি থেকে জাহাজ ছাড়তে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে।
  • বন্দর ইয়ার্ড থেকে কোনো পণ্য ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফজলে একরাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে  জানিয়েছেন, শ্রমিকরা বুকিং নিচ্ছেন না এবং কর্মচারীরা ‘কলম বিরতি’ পালন করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও দাবি
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) গত কয়েক মাস ধরে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাদের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো:
লাভজনক টার্মিনাল: এনসিটি বন্দরের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক।
নিজস্ব অর্থায়ন: টার্মিনালটি বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে নতুন কোনো বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই।
আকস্মিক সিদ্ধান্ত: অন্তর্বর্তী সরকারের এই দ্রুত ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রশ্ন তুলেছে।
প্রশাসনের পাল্টা ব্যবস্থা ও পরবর্তী কর্মসূচি
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ গত দুই দিনে মোট ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ঢাকার আইসিডি ও নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে বদলি করেছে। তবে এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে:
কালো পতাকা মিছিল: বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার ‘স্কপ’-এর পক্ষ থেকে বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
টানা কর্মবিরতি: আজ সোমবারও সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি।
নিষেধাজ্ঞা: জননিরাপত্তা ও আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে।
বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানালেও শ্রমিকদের অনুপস্থিতিতে বাস্তবে স্থবিরতা কাটেনি, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করছে।