মো:সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও: সদর উপজেলার পল্লিবিদ্যুৎ থেকে আখানগর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও পুনঃসংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা প্রশস্তকরণে নির্ধারিত বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ‘রাবিশ’। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে যেখানে ভালো মানের পিকেট ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোনো ভাঙা ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি মোটরসাইকেল চললেই সেই খোয়া গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পথচারী বলেন, “অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যা ইচ্ছা তাই করছে।”
সড়কটির একপাশ খুঁড়ে রাখা হলেও সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা ব্যারিকেড দেওয়া হয়নি। ফলে গত ৮ মার্চ বিকেলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিক ও শিশুসহ ৪ জন আহত হন। বর্তমানে তারা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশেষ করে ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার পেলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। স্থানীয়দের দাবি, কাজটি করছেন সোহেল নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে অন্য এক ব্যক্তির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন।
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস জানান: “আমরা কাজের মান সম্পর্কে শতভাগ সচেতন। নিম্নমানের কাজ করে বিল পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদারকি জোরদার করা হবে।”