Home First Lead তারেক রহমানের সংসদীয় মিশন: ঐতিহ্য বনাম আধুনিকায়ন

তারেক রহমানের সংসদীয় মিশন: ঐতিহ্য বনাম আধুনিকায়ন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত পথ ধরে এবং দীর্ঘ ৫৮৩ দিনের সংসদীয় শূন্যতা পেরিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এক ব্যতিক্রমী আবহে, কোনো স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ছাড়াই যাত্রা শুরু করছে এই সংসদ। একদিকে জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, অন্যদিকে নবনির্বাচিত বিপুল সংখ্যক তরুণ এমপির সংসদীয় রীতিনীতিতে অভ্যস্ত হওয়া—সব মিলিয়ে এক বিশাল পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আজ সংসদ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে সংসদ: ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা এই সংসদের কাঠামোতে রয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। নবনির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৭৬ শতাংশই নতুন মুখ, যাদের বড় অংশই তরুণ। বিশ্লেষকরা একে ‘ব্যতিক্রমী সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রথমবারের মতো এমপি হয়েই সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল নজির।
অন্যদিকে, রাজপথের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসছে জামায়াত-এনসিপি জোট। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদীয় কার্যক্রম শুরু করছেন ডা. শফিকুর রহমান।
স্পিকারহীন অধিবেশন ও অভিনব প্রক্রিয়া
বিদায়ী সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের কারাবাসের কারণে আজ এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। কার্যপ্রণালী অনুযায়ী:
  • প্রধানমন্ত্রী সূচনা বক্তব্যে একজন সিনিয়র এমপিকে অধিবেশন পরিচালনার অনুরোধ জানাবেন।
  • তার সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
  • এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের সংসদের প্রাণভোমরা হলো ‘জুলাই সনদ’। তবে এই সনদ বাস্তবায়ন এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব নিয়ে জনমনে কৌতূহল তুঙ্গে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী জোটকে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা “খণ্ডিতভাবে নয়, পুরো প্যাকেজ” চান। জুলাই সনদ অনুযায়ী সরকারি দলের এমপিদের শপথ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা এই পদ গ্রহণে এখনো অনীহা দেখাচ্ছেন।
আজকের অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণ রাষ্ট্রপতির ভাষণ। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের এই রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিরোধী জোটের ভেতরে চরম অসন্তোষ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দল সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করতে পারে।
শহীদ পরিবারের সম্মান ও অতিথিবৃন্দ
ঐতিহাসিক এই অধিবেশনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের পাশাপাশি বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শহীদ গোলাম নাফিসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই সংসদ হবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
এক নজরে ত্রয়োদশ সংসদ:
বিষয় তথ্য
মোট আসন ৩০০ (নির্বাচন হয়েছে ২৯৭টিতে)
সরকারি দল (বিএনপি) ২০৯টি আসন
প্রধান বিরোধী দল (জামায়াত) ৬৮টি আসন
নতুন সংসদ সদস্য ২২৭ জন (৭৬%)
সংসদের মেয়াদ মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত