বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সরকারের সাম্প্রতিক তথ্যে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, দেশের সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশই এখন বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। আর এই একচেটিয়া আধিপত্যকে পুঁজি করে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী চক্র কারসাজির মাধ্যমে দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, এলপিজির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটছে।
উপদেষ্টা বলেন, “কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে এবং এর সাথে খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা জড়িত।” বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সাড়াসি অভিযানের মাধ্যমে দ্রুতই বাজার স্বাভাবিক হবে।
বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীরা প্রায়ই সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেন। এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, কিছু নির্দিষ্ট জাহাজের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় এলপিজি পরিবহনে সাময়িক কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার এটি নিরসনে কাজ করছে। বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, চলতি মাসে সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
বেসরকারি খাতের একাধিপত্য: ৯৮% বাজার বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিইআরসির রেট অমান্য: ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দরে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ।
পরিবহন জটিলতা: জাহাজ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আমদানিতে সাময়িক মন্থরগতি।
“বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো সিন্ডিকেটকে সাধারণ মানুষের মৌলিক জ্বালানি চাহিদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” — মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা
সরকারের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এবং মাঠ পর্যায়ের তদারকি কত দ্রুত সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।