বিজনেসটুডে২৪৩ প্রতিনিধি, ঢাকা: ভোক্তাদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের পথে হাঁটল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড। কমিশন বৃদ্ধি ও জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার সন্ধ্যায় এক জরুরি নোটিশের মাধ্যমে দেশের সকল পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে কোনো কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলন না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি তাদের দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কমিশন বাড়ানো এবং ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্ন সময়ে করা জরিমানা বন্ধ করা।
সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকবে। তবে এদিন বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক নির্ধারিত আছে। বৈঠকে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে পুনরায় বিক্রি শুরু হবে, অন্যথায় এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল চলবে।”
ক্ষুব্ধ ও জিম্মি ভোক্তাসাধারণ:
ব্যবসায়ীদের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘরোয়া রান্নার জন্য দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। হুট করে সরবরাহ বন্ধের ঘোষণায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
রাজধানীর এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাদের লাভের জন্য সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কাল যদি রান্না বন্ধ হয়ে যায়, তার দায় কে নেবে? দাবি আদায়ের জন্য জনগণকে জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এই ঘোষণার সুযোগ নিয়ে অনেক অসাধু বিক্রেতা রাতেই বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করেছেন। ভোক্তাদের মতে, বিইআরসি বা সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত, বাজার অস্থিতিশীল করে সাধারণ মানুষকে শাস্তি দেওয়া একটি নিন্দনীয় অপপ্রয়াস।
এখন সবার নজর বৃহস্পতিবার বিকেলের বৈঠকের দিকে। বিইআরসি ব্যবসায়ীদের দাবি আমলে নিয়ে জনভোগান্তি কমাতে কী পদক্ষেপ নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রান্নার গ্যাসের মতো জরুরি সেবা বন্ধ করে আন্দোলন করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।