ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যাকে চিকিৎসকরা প্রায়শই ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিঃশব্দ ঘাতক বলে অভিহিত করেন। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণগুলো এতই মৃদু ও ধীরগতির হয় যে, অনেক সময় তারা এগুলোকে দৈনন্দিন কাজের ক্লান্তি বা সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। মুম্বাইয়ের ওকহার্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ডক্টর প্রণব ঘড়ির মতে, লক্ষণগুলো শুরুতে খুব সাধারণ মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে।
সাধারণত রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীর তার বাড়তি চিনি বের করে দেওয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাবের সংকেত দেয়, যার ফলে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত তেষ্টা পায়। দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক, কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীরে শক্তি ফিরে না আসে এবং সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করে, তবে বুঝতে হবে শরীর বড় কোনো সমস্যার সংকেত দিচ্ছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) বা ত্বকের চুলকানি ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কিন্তু অবহেলিত লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ দ্রুত প্রকাশ পেলেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস শরীরে বাসা বাঁধে অত্যন্ত গোপনে। হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া বা শরীরের কোনো ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেওয়া ডায়াবেটিসের স্পষ্ট লক্ষণ। যদি ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে পরিস্থিতি গুরুতর। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এই লক্ষণগুলো দেখা মাত্রই রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে হার্ট, কিডনি ও স্নায়ুর জটিলতা থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।
আপনার শরীর কি এমন কোনো সংকেত দিচ্ছে? নিয়মিত স্বাস্থ্যের যত্ন নিন এবং সুস্থ থাকতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন ও আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান।