Home নির্বাচন ওয়াদুদ ভূঁঞার হলফনামা: মামলার পাহাড় ছাপিয়ে সম্পদের আকাশচুম্বী উল্লম্ফন!

ওয়াদুদ ভূঁঞার হলফনামা: মামলার পাহাড় ছাপিয়ে সম্পদের আকাশচুম্বী উল্লম্ফন!

আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা। ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি (২৯৮ নং আসন) থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।  নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত তার হলফনামা পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অসংখ্য ফৌজদারি মামলার দীর্ঘ তালিকা আর কয়েক কোটি টাকার সম্পদের বিবরণী এখন টক অব দ্য টাউন।
স্থাবর সম্পদ: পঁচিশ কোটির বিশাল সাম্রাজ্য

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা । তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে:

অকৃষি জমি: অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ টাকা

আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন: অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ২০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা

বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট: খাগড়াছড়িতে অবস্থিত যার অর্জনকালীন মূল্য ৮৫ লাখ টাকা

অন্যান্য সম্পদ: অর্জনকালীন মূল্য ২০ লাখ ৩ হাজার ৬৫০ টাকা

অস্থাবর সম্পদ: ব্যাংকেই জমা ৬ কোটির বেশি

ওয়াদুদ ভূঁঞার অস্থাবর সম্পদের মোট অর্জনকালীন মূল্য ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার ৬২৯ টাকা । এর উল্লেখযোগ্য অংশ হলো:

ব্যাংক জমা: বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা আছে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৬ টাকা

শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র: ৫৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার এবং ১৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে তার নামে

নগদ টাকা: প্রার্থীর কাছে নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২০ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা রয়েছে

স্বর্ণালঙ্কার: নিজের নামে ২০ তোলা সোনা থাকলেও তার মূল্য অজানা বলে উল্লেখ করা হয়েছে

যানবাহন: ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮৯ টাকা মূল্যের মোটরযান রয়েছে তার

মামলার রেকর্ড: ২৬টি থেকে অব্যাহতি, এখনো ঝুলছে ৮টি!

হলফনামায় দেখা যায়, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার বিরুদ্ধে অতীতে মামলার এক বিশাল পাহাড় ছিল। তিনি মোট ২৬টি ফৌজদারি মামলা থেকে বিভিন্ন সময়ে খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন তবে এখনো তার পিছু ছাড়েনি ৮টি মামলা বর্তমানে চলমান মামলাগুলোর বেশিরভাগই ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়কার এবং বর্তমানে উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এসব মামলার মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির গুরুতর সব ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

আয়ের উৎস ও দায়-দেনা

প্রার্থীর বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং ব্যবসা। কৃষিখাত থেকে বছরে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৭ টাকা আয় করেন তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৫২০ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন হলফনামায় তিনি কোনো ব্যাংক ঋণ নেই বলে দাবি করলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে জমি বিক্রির অগ্রিম ও অন্যান্য বাবদ তার ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৮০৮ টাকার দায় রয়েছে

এম.এস.এস (MSS) শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবারো নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তিনি তার অতীত উন্নয়নের ফিরিস্তি ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন