রামেশ ভট্টরাই, কাঠমান্ডু:নেপালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এবারের নির্বাচনী ময়দান অভিজ্ঞতায় যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি সমীকরণেও বেশ জটিল। দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকলেও নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণে সরাসরি ভোটে লড়তে নামছেন নেপালের চার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ঝাপা, রউতাহাত, পূর্ব রুুকুম এবং গোর্খা—এই চারটি নির্বাচনী এলাকা এখন সারা দেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নেপালে সাধারণ নির্বাচন আগামী ৫ মার্চ।
অবসরের ঘোষণা ভেঙে ফিরলেন বাবুরাম ভট্টরাই
সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন ড. বাবুরাম ভট্টরাই। গত সেপ্টেম্বরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ‘জনগণের দাবি’র মুখে তিনি পুনরায় গোর্খা-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের হয়ে লড়া ভট্টরাইয়ের জন্য এবারের পথ সহজ নয়। নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল-এর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তাকে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’র চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ঝাপায় ওলি বনাম ব্যালেন শাহ: লড়াই যখন শেকড় বনাম তারুণ্যের
সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান কেপি শর্মা ওলি লড়ছেন তার দীর্ঘদিনের দুর্গ ঝাপা-৫ আসন থেকে। ১৯৯১ সাল থেকে মাত্র একবার বাদে এই আসনে তিনি অজেয়। তবে এবার তার সামনে দাঁড়িয়েছেন এক ‘হেভিওয়েট’ প্রতিদ্বন্দ্বী—কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র এবং বর্তমানে তরুণদের আইকন ব্যালেন শাহ।
ইউএমএল ওলিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করলেও তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যালেনের জনপ্রিয়তা ওলি-র জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাওবাদী ঘাঁটিতে ‘প্রচণ্ড’ লড়াই
নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ক পুষ্পকমল দাহাল (প্রচণ্ড) এবার বেছে নিয়েছেন পূর্ব রুকুম আসনটি। মাওবাদী সশস্ত্র সংগ্রামের এই পুরনো দুর্গটি তার জন্য তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হচ্ছে। দাহাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটিই হতে পারে তার শেষ সরাসরি নির্বাচন। রুকুম থেকে তার এই নির্বাচনী যাত্রাকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘বিপ্লবের স্মৃতি বিজড়িত’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাধব নেপালের ষষ্ঠ লড়াই
তালিকায় চতুর্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হলেন মাধব কুমার নেপাল। সিপিএন (ইউনিফাইড সোশ্যালিস্ট) ভেঙে নতুন ব্যানারে তিনি রউতাহাত-১ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো প্রতিনিধি সভায় যাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।
১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই নেতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভোটারদের কতটা টানবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও অভিজ্ঞতার ভার, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—এই দুইয়ের দোলাচলে নেপালের ২০২৬-এর নির্বাচন এক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রাক্তন এই চার মহারথীর ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










