হেলথ ডেস্ক: ব্রিটেনে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দুধ পানের অভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭৪ সালে একজন ব্রিটিশ নাগরিক সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৫ পিন্ট দুধ পান করতেন, যা বর্তমানে কমে মাত্র ২ পিন্টে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন ডেইরি দুধের পরিবর্তে উদ্ভিদ-ভিত্তিক (plant-based) পানীয়ের দিকে ঝুঁকছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দুধ কেন অপরিহার্য?
দুধ কেবল ক্যালসিয়াম বা প্রোটিনের উৎস নয়, এতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে:
ভিটামিন B12: স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
আয়োডিন: মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখে।
পটাশিয়াম ও ফসফরাস: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।
ডেইরি দুধের বিভিন্ন ধরন: কোনটি আপনার জন্য সেরা?
ধরন |
বৈশিষ্ট্য |
কাদের জন্য উপযোগী |
ফুল-ফ্যাট (Full-fat) |
এতে ভিটামিন A থাকে এবং এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। |
যারা বেশি শক্তি এবং পুষ্টি চান। |
সেমি-স্কিমড/স্কিমড |
ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম। |
ওজন নিয়ন্ত্রণ বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে। |
ল্যাকটোজ-মুক্ত |
সাধারণ দুধ থেকে ল্যাকটোজ ভেঙে হজমযোগ্য করা হয়। |
ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা হজমে সমস্যা থাকলে। |
ছাগলের দুধ (Goat’s Milk) |
পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বেশি, হজম করা সহজ। |
গরুর দুধে যাদের পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হয়। |
জার্সি মিল্ক (Jersey Milk) |
২০% বেশি ক্যালসিয়াম ও ১৮-২০% বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ। |
সর্বোচ্চ পুষ্টির জন্য (এতে A2 প্রোটিন থাকে যা হজমে সহজ)। |
গাঁজানো দুধ বা কেফির (Kefir)
কেফির হলো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ একটি পানীয় যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আলঝেইমার রোগীদের স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে।
উদ্ভিদ-ভিত্তিক (Plant-based) দুধের সীমাবদ্ধতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদাম বা শস্য থেকে তৈরি দুধ ডেইরি দুধের সমতুল্য নয়।
প্রোটিনের অভাব: ২০০ মিলি গরুর দুধে যেখানে ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, আমন্ড দুধে থাকে মাত্র ১ গ্রাম।
অতিরিক্ত উপাদান: স্বাদ বাড়ানোর জন্য এগুলোতে প্রায়ই উদ্ভিজ্জ তেল, স্ট্যাবিলাইজার এবং চিনি মেশানো হয়।
পুষ্টি শোষণ: কৃত্রিমভাবে ভিটামিন যোগ করা হলেও (fortified) শরীর তা প্রাকৃতিক দুধের মতো কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ২০০ মিলি গ্লাসের ২-৩ অংশ ডেইরি খাবার (দুধ, দই বা পনির) গ্রহণ করা পর্যাপ্ত।
এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com










