আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পতন
অর্থনীতি ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+) তাদের পূর্বনির্ধারিত উৎপাদন নীতি বজায় রাখার এবং বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর পরই আজ সকালে এই দরপতন ঘটে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ডব্লিউটিআই (WTI)—উভয় ধরনের তেলের দামই ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক উদ্বেগ দূর করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্য বাজারে।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
গত কয়েক মাস ধরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শীর্ষস্থানীয় কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে জ্বালানি তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওপেক প্লাস হয়তো নতুন করে তেল উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আজ জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বর্তমান উৎপাদন মাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হবে।
এই ঘোষণার পর এশিয়ান ট্রেডিং আওয়ারের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২ শতাংশ কমে যায়। একই ধারা বজায় ছিল মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ক্ষেত্রেও।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই মূল্য হ্রাস বর্তমান বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
- পরিবহন ও উৎপাদন খরচ হ্রাস: তেলের দাম কমলে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবহন ব্যয় কমবে, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
- আমদানিকারক দেশগুলোর স্বস্তি: বাংলাদেশসহ এশিয়ার যেসব দেশ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।










