বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি দলীয় এক কর্মসূচিতে তিনি এই প্রস্তাবিত কার্ডের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর এই ঘোষণাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ তৃণমূলের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কী আছে এই প্রস্তাবিত ‘কৃষক কার্ডে’?
তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ড হবে একজন কৃষকের ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে প্রধানত ৪টি সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে:
সরাসরি ভর্তুকি: সার, বীজ ও কীটনাশকের ভর্তুকির টাকা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ডিলারের কাছে না গিয়ে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা কার্ডের মাধ্যমে পয়েন্ট-অফ-সেল ডিসকাউন্ট হিসেবে যাবে।
জামানতহীন ঋণ: প্রকৃত কৃষকরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই কার্ড প্রদর্শন করে ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।
ফসলের ন্যায্যমূল্য: ধান বা গম সংগ্রহের সময় সরকার সরাসরি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে ফসল কিনবে, যাতে ফড়িয়া বা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।
সেচ ও জ্বালানি সহায়তা: সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ বিল এবং ট্রাক্টরের ডিজেল ক্রয়ে কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে।
মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া: আশার মাঝেও শঙ্কা
তারেক রহমানের এই ঘোষণা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
উৎসাহী কৃষকদের বক্তব্য: চট্টগ্রামের আনোয়ারার একজন প্রান্তিক কৃষক বলেন, “কার্ডের মাধ্যমে যদি সরাসরি সারের টাকা পাওয়া যায়, তবে ডিলারদের কাছে জিম্মি থাকতে হবে না। আমরা চাই প্রকৃত কৃষকরা যেন এই কার্ড পায়।” অনেক কৃষক মনে করছেন, এটি কার্যকর হলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সংশয় ও চ্যালেঞ্জ: তবে কার্ডের বাস্তবায়ন নিয়ে কৃষকদের মনে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। বাঁশখালীর এক চাষী বলেন, “আগেও অনেক কার্ড হয়েছে কিন্তু সুবিধা পেয়েছে প্রভাবশালীরা। এই কার্ড কি সত্যিই গরিব চাষীদের হাতে পৌঁছাবে?” এছাড়া বয়স্ক ও প্রযুক্তি-অদক্ষ কৃষকরা ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ‘ডিজিটাল কৃষি অর্থনীতি’
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা তারেক রহমানের এই প্রস্তাবকে **’স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা’**র দিকে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থার মূল শক্তি হলো স্বচ্ছতা। যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি নির্ভুল ‘কৃষক ডাটাবেজ’ তৈরি করা যায়, তবে কৃষি খাতের দুর্নীতি অর্ধেক কমে আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রকল্পের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি হলো তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কার্ডের মাধ্যমে বিএনপি সরাসরি গ্রামবাংলার বিশাল ভোটব্যাংককে ডিজিটাল সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের বলয়ে আনার কৌশল নিয়েছে।