আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্চ ২৯,২০২৬। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তখন কেবল ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষা। জার্মানি ও ফ্রান্সের সীমান্তঘেঁষা শহর কেলের ‘কে ক্লাব’ (K Club) তখন তারুণ্যের উল্লাসে মুখরিত। হিপ-হপ মিউজিকের তালে যখন শয়ে শয়ে তরুণ-তরুণী জীবনের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক মহাপ্রলয় হানা দিল সব আনন্দ কেড়ে নিতে।
মুহূর্তেই নরককুণ্ড ভোর তখন পৌনে চারটে। হঠাৎই ছন্দপতন। ক্লাবের ছাদে আগুনের লাল আভা দেখে থমকে যায় গান। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরাসি, জার্মান এবং ইংরেজি—তিন ভাষায় যখন ‘আগুন লেগেছে’ বলে ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন সবার চোখেমুখে ছিল কেবল বাঁচার আকুতি। প্রায় ৭৫০ জন মানুষের পদচারণায় মুখর ক্লাবটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়।
মৃত্যুঞ্জয়ী এক লড়াই আগুনের লেলিহান শিখা যখন চারপাশ গ্রাস করছিল, তখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝে শুরু হয় এক চরম লড়াই। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের প্রায় ৮০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দমকল কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টায় যখন আগুন নেভানোর লড়াই চলছে, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রিয় আড্ডাস্থলকে ছাই হতে দেখছিলেন শত শত তরুণ।
অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় যে, মালিকপক্ষের বিচক্ষণতা এবং কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ৭৫০ জন মানুষের সবাই প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছেন। যদিও ভয়াবহ সেই আতঙ্ক বা ‘শক’-এর কারণে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
কেলের মেয়র উলফরাম ব্রিটজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে কেউ প্রাণ হারাননি। ক্লাব মালিকের সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্যই আজ এতগুলো প্রাণ বেঁচে গেল।”
যেখানে স্মৃতিরা এখন ধ্বংসস্তূপ
সকালের সূর্য যখন কেল শহরের আকাশে উঠল, তখন আর সেখানে কোনো জৌলুস ছিল না। যে ভবনে কয়েক ঘণ্টা আগেও প্রাণের স্পন্দন ছিল, তা এখন কেবল একটি পোড়া কঙ্কাল। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের অস্তিত্ব রক্ষায় সেটির বেশির ভাগ অংশই গুঁড়িয়ে দিতে হয়েছে।
হয়তো প্রাণ বেঁচেছে সবার, কিন্তু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অজস্র মানুষের সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি। বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি যখন এখনো সতেজ, তখন কেলের এই ঘটনা মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিল—জীবন কতটা অনিশ্চিত।
তদন্ত শুরু আগুনের কারণ এখনো রহস্যাবৃত। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন বিকেলের রোদে শেষ আগুনটুকু নেভাচ্ছিলেন, তখন কেল আর স্ট্রাসবার্গের সীমান্তজুড়ে বয়ে যাচ্ছিল এক বিষণ্ন স্তব্ধতা।