তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা: আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর জোগান নিয়ে দেশজুড়ে সব ধরণের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর দেশের অভ্যন্তরীণ খামারগুলো থেকেই চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাইরের দেশ থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না সরকার।
চাহিদা ও জোগানের পরিসংখ্যান
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩ মে ২০২৬-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে কোরবানির পশুর মোট চাহিদা ১০.১ মিলিয়ন (১ কোটি ১ লাখ)। এর বিপরীতে দেশের খামারিরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন প্রায় ১২.৩৩ মিলিয়ন (১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার) পশু।
পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ২.২৩ মিলিয়ন বা ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
আমদানিনির্ভরতা থেকে মুক্তি
কোরবানির পশুর এই বিশাল জোগান মূলত দেশীয় খামারিদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল। কয়েক বছর আগেও কোরবানির জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ গবাদি পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামারিদের সরকারিভাবে স্বল্প সুদে ঋণ, আধুনিক লালন-পালন পদ্ধতি এবং উন্নত জাতের বীজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে।
বাজার স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাহিদার তুলনায় পশুর জোগান পর্যাপ্ত হওয়ায় এবার দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে। যেহেতু ২২ লাখেরও বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাই হাটে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পাবেন না মধ্যস্বত্বভোগীরা। ফলে প্রান্তিক খামারিরা যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনি ক্রেতারাও স্বস্তিতে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন।
সরকারি তদারকি ও নিরাপত্তা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আমাদের দেশের খামারিরা এখন অত্যন্ত দক্ষ। ১২.৩৩ মিলিয়ন পশু প্রস্তুত করার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পশু যাতে অসুস্থ না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা।”
সরকার আরও নিশ্চিত করেছে যে, উদ্বৃত্ত পশুগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হাটগুলোতে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করবে। এছাড়া উপকূলীয় বা দুর্গম এলাকার পশু যেন সহজে শহরে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য বিশেষ পরিবহন সুবিধাও তদারকি করা হচ্ছে।