আপনি কি আসলে খাঁটি সোনা কিনছেন?
সিরিজ প্রতিবেদন
পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই
কামরুল হাসান
সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, এটি বিপদের বন্ধু। কিন্তু এই সম্পদ কিনতে গিয়েই অধিকাংশ মানুষ সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হন। “২২ ক্যারেট” বলে আপনাকে ১৮ বা ২০ ক্যারেটের সোনা ধরিয়ে দেওয়া কিংবা পাথরের ওজনকে সোনার দামে বিক্রি করা এখন জুয়েলারি খাতের প্রকাশ্য জালিয়াতি। এই ‘হলুদ ফাঁদে’ পড়ে একজন সাধারণ ক্রেতা ভরি প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান করেন, যা তিনি বুঝতে পারেন কেবল যখন সেই সোনা আবার বিক্রি করতে যান।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে স্বর্ণ বাজারের কিছু ধূর্ত জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে।
সোনার দোকানে যেভাবে চলে ‘উজ্জ্বল’ জালিয়াতি
১. ক্যারেট চুরি (Purity Scam): ২২ ক্যারেট সোনা মানে তাতে ৯১.৬% খাঁটি সোনা থাকার কথা। কিন্তু অনেক দোকানদার ১৮ বা ২০ ক্যারেটের গয়নায় ২২ ক্যারেটের সিল মেরে দেয়। যেহেতু খালি চোখে বা হাতে নিয়ে বিশুদ্ধতা বোঝা অসম্ভব, তাই ক্রেতা বিশ্বাস করে ঠকে যান। বিক্রি বা বদল করতে গেলে তখন পেরিটি বা খাদ (Kad) কাটার নামে বড় অংকের টাকা কেটে রাখা হয়।
২. পাথরের ওজনকে ‘সোনার দাম’ ধরা: গয়নায় ব্যবহৃত হীরা, চুনি, পান্না বা সাধারণ পাথরের ওজন আলাদাভাবে হিসাব করার কথা। কিন্তু অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পুরো গয়নাটি পাথরের ওজনসহ ওজন করেন এবং পাথরের ওজনের ওপরও সোনার সমপরিমাণ দাম ধরেন। এতে সামান্য পাথরের জন্য আপনাকে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি গুণতে হয়।
৩. মজুরি (Making Charge) ও ভ্যাট কারসাজি: গয়না তৈরির মজুরিতে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। ইদ বা বিয়ের মৌসুমে মজুরি অনেক বাড়িয়ে ধরা হয়। আবার অনেক সময় ভ্যাট (VAT) আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে তা জমা না দেওয়ার বা রসিদে কারচুপি করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
৪. পুরাতন সোনা কেনার সময় জালিয়াতি: আপনি যখন নিজের পুরনো সোনা বিক্রি করতে যান, তখন দোকানদাররা অ্যাসিড টেস্ট বা আগুনের পরীক্ষার নামে সোনা থেকে অনেকটা খাদ বা সোনা পুড়িয়ে কমিয়ে ফেলে। ডিজিটাল ওজন মেশিনে কারসাজি করে ওজনে কম দেখানোর ঘটনাও অহরহ ঘটে।
সোনা কেনার সময় প্রতারণা এড়াতে যা করবেন:
- হলমার্ক (Hallmark) যাচাই: সোনা কেনার সময় গয়নার ভেতরে খোদাই করা হলমার্ক চিহ্ন (যেমন ২২কে বা ৯১৬) দেখুন। বর্তমান যুগে হলমার্কহীন সোনা কেনা মানেই প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া।
- বিওজেএ (BAJUS) রেট যাচাই: সোনা কেনার আগে অবশ্যই ঐ দিনের বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত অফিসিয়াল রেট দেখে নিন। দোকানদার বেশি দাম চাইলে বাজুসের দোহাই দিন।
- পাথর বাদ দিয়ে ওজন: গয়নায় পাথর থাকলে বিক্রেতাকে স্পষ্ট বলুন পাথরের ওজন বাদ দিয়ে নিট সোনার ওজন করতে। পাথরের জন্য আলাদা মূল্য দিন, সোনার মূল্যে নয়।
- পাকা রসিদ ও ক্যারেট গ্যারান্টি: রসিদে স্পষ্টভাবে ক্যারেট, ওজন, মজুরি এবং ঐ দিনের রেট লিখিয়ে নিন। ভবিষ্যতে সোনা বদলাতে বা বিক্রি করতে এই রসিদটিই আপনার একমাত্র রক্ষাকবচ।










