Home আন্তর্জাতিক ক্ষমতা হারানোর ভয়? ২০ ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ দেশ ছাড়ার গোপন ছক আঁকছেন খামেনি

ক্ষমতা হারানোর ভয়? ২০ ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ দেশ ছাড়ার গোপন ছক আঁকছেন খামেনি

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট এবং জীবনযাত্রার মানের চরম অবনতিতে সৃষ্ট গণবিক্ষোভ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস
গোপন ‘প্ল্যান বি’ ও পালানোর পথ
গত ৪ঠা জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানানো হয়, খামেনেই একটি জরুরি ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা ‘প্ল্যান বি’ তৈরি করেছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের দমনে ব্যর্থ হয় অথবা পক্ষ ত্যাগ করে, তবে খামেনেই তার ছেলে মোজতবা এবং পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে তেহরান ত্যাগ করবেন। এই যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বিদেশে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্থাবর সম্পত্তি এবং সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গন্তব্য কেন মস্কো?
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থায় দীর্ঘকাল কাজ করা ইরানি দলত্যাগী বেনি শাবতি জানিয়েছেন, খামেনেইর জন্য রাশিয়ার মস্কো ছাড়া আর কোনো নিরাপদ বিকল্প নেই। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:
ব্যক্তিগত সম্পর্ক: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি খামেনেইর গভীর শ্রদ্ধা।
সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য: ইরান ও রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য।
সিরিয়ার উদাহরণ: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ যেভাবে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, খামেনেই সেই পথই অনুসরণ করতে পারেন।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই শারীরিকভাবে দুর্বল এবং মানসিকভাবে কিছুটা ‘প্যারানয়েড’ (অস্থির ও সন্দিহান) হয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে নিজেকে জনচক্ষু থেকে আড়ালে রেখেছেন এবং বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মুদ্রার ধস এবং আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি। তবে বর্তমানে তা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে এখন “স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই” এর মতো স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
প্রাণহানি: সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ: বিক্ষোভ দমনে দেশটির বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হুমকি: খামেনেই বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের এই পরিস্থিতি কেবল দেশটির অভ্যন্তরেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।