Home আন্তর্জাতিক ‘পিছু হঠব না’ হুঁশিয়ারি খামেনির, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি

‘পিছু হঠব না’ হুঁশিয়ারি খামেনির, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রূপ নিয়েছে ইরান সরকারের ভিত কাঁপানো গণঅভ্যুত্থানে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামিক রিপাবলিক কোনো অবস্থাতেই বিক্ষোভকারীদের সামনে ‘পিছু হঠবে না’।

কঠোর অবস্থানে খামেনি, উত্তপ্ত রাজপথ

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “শত সহস্র মানুষের রক্তের বিনিময়ে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কতিপয় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কাছে এটি নতি স্বীকার করবে না।”

খামেনি এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে বলেন, “দাম্ভিক ট্রাম্পের হাত হাজারো ইরানির রক্তে রঞ্জিত।” উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন। খামেনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ১৯৭৯ সালের শাহ রাজবংশের মতোই বর্তমান মার্কিন নেতার পতন ঘটবে।

‘মৃত্যু হোক স্বৈরাচারের’— স্লোগানে কাঁপছে তেহরান

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা বাজার সাথে সাথেই তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের অলিগলি ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক’ এবং ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন হোক’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বহু জায়গায় সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মারকাজি প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও দমন-পীড়ন

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশটি ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের কবলে রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও শাহজাদা পাহলভির ডাক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত হানব। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।” এমনকি খামেনি দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যেতে পারেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি এই আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবারও তিনি দেশবাসীকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ইন্টারনেট বন্ধ করেও আপনাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। জয় আপনাদেরই হবে।” অনেক বিক্ষোভকারীকে ১৯৭৯-পূর্ববর্তী শাহ আমলের স্লোগান দিতেও দেখা গেছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

থমকে গেছে আকাশপথ

ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে শুরু করেছে। তুর্কি এয়ারলাইনস শুক্রবার তেহরানগামী তাদের পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া বেশ কিছু ইরানি এয়ারলাইনসও তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।

২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনি পরবর্তী আন্দোলনের পর এটিই ইরানের বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।