Home আন্তর্জাতিক মা, আমি কি আর জাগব না? গাজার ১০০ শিশুর শেষ না...

মা, আমি কি আর জাগব না? গাজার ১০০ শিশুর শেষ না হওয়া স্বপ্ন

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
 ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আজ আকাশ মেঘলা, কিন্তু সেই মেঘ চিরে আসা আলোটুকুও গাজার শিশুদের মনে আশার আলো জ্বালাতে পারছে না। গত অক্টোবর ২০২৫-এ যখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন অনেক মা-বাবা হয়তো ভেবেছিলেন এবার অন্তত তাদের সন্তানদের রাতের ঘুমটুকু শান্তিতে কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মম।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার গাজা থেকে সরাসরি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যে তথ্য জানিয়েছেন, তা শুনলে যে কারো বুক কেঁপে উঠবে। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এই কয়েক মাসেই গাজায় ১০০-এর বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।  অসম্পূর্ণ সংখ্যা, সীমাহীন শোক জেমস এল্ডার যখন কথাগুলো বলছিলেন, তার পেছনের ধ্বংস্তূপগুলোই যেন গাজার বর্তমান অবস্থার সাক্ষ্য দিচ্ছিল।
তিনি অত্যন্ত ভারী গলায় বলেন, “এই ১০০ জনের সংখ্যাটি কেবল তাদের, যাদের মৃত্যুর তথ্য আমরা নথিবদ্ধ করতে পেরেছি। কিন্তু গাজার অলিগলিতে ধসে পড়া ভবনের নিচে কিংবা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কত শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে, তার সঠিক হিসাব হয়তো কোনোদিনও পাওয়া যাবে না।”
বেঁচে থাকা যেখানে ‘ভাগ্যের খেলা’
গাজার শিশুদের জন্য আজ বেঁচে থাকা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভাগ্য। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে বোমাবর্ষণের গতি কমলেও তা পুরোপুরি থামেনি। মাঝেমধ্যেই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে কোনো না কোনো বসতি। জেমস এল্ডারের ভাষায়, “বেঁচে থাকাটা এখানে এখনো শর্তসাপেক্ষ। বোমা বা গুলি থেকে যদি কেউ বেঁচেও যায়, ক্ষুধার যন্ত্রণা আর চিকিৎসার অভাব তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব
গাজার হাসপাতালে গেলে দেখা যায় সারি সারি আহত শিশু। কারো হাত নেই, কারো পা নেই, আবার কারো চোখে জমে আছে আজীবনের আতঙ্ক। শত শত শিশু প্রতিদিন পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে।
ইউনিসেফ জানাচ্ছে, এই শিশুরা কেবল শারীরিকভাবেই ক্ষতবিক্ষত নয়, মানসিকভাবেও তারা ভেঙে পড়েছে। যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে তারা নিজ চোখে দেখছে প্রিয়জনদের রক্তাক্ত বিদায়।
বিশ্বের মানচিত্রে গাজা আজ কেবল একটি ধ্বংসস্তূপের নাম নয়, বরং এটি মানবতা হরণের এক জীবন্ত দলিল। যুদ্ধবিরতির কাগজ-কলমের হিসাব যাই বলুক না কেন, গাজার বাতাসে এখনো ভাসে শিশুদের কান্নার আওয়াজ আর স্বজন হারানো মায়েদের দীর্ঘ